রায়পুর: সোনম রঘুবংশী, মুসকান রাস্তোগি... স্বামীকে খুনের ঘটনায় উঠে এসেছিল এদের নাম। মেঘালয়ের হানিমুন মার্ডার হোক বা তারও আগে মিরাটে মার্চেন্ট নেভি অফিসার খুন। হাড়হিম করা একাধিক ঘটনায় কাঠগড়ায় স্ত্রীরা। এরপর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একাংশকে মহিলাদের বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছে। এই আবহে এক মর্মান্তিক ছবি উঠে এল ছত্তিশগড় থেকে। সেরাজ্যে বধূ নির্যাতনের এক উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। জানা গেল, ছত্তিশগড়ে গত ১১৫ দিনে ৩০ জন মহিলার মৃত্যু হয়েছে স্বামীর হাতে। অর্থাৎ গড়ে প্রতি চারদিনে খুন একজন বধূ।
মাত্র তিনমাস আগে বিয়ে হয় ছত্তিশগড়ের ধামতারি জেলার ধনেশ্বর প্যাটেলের। চলতি মাসের ৭ তারিখ সন্দেহের বশে স্ত্রীকে খুন করে সে। জেরায় বিষয়টি স্বীকারও করেছে সে। আবার, গত ২২ মার্চ গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হয় এক স্কুল শিক্ষিকার। প্রাথমিকভাবে বালোদ জেলার এই ঘটনাকে সড়ক দুর্ঘটনা বলেই মনে করেছিল পুলিস। যদিও তদন্তের পর জানা যায়, পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছে ওই মহিলাকে। অভিযুক্ত তাঁর স্বামী। গত ১১৫ দিনে এমনই ৩০টি ঘটনার সাক্ষী থেকেছে ছত্তিশগড়। যার মধ্যে ১০টি খুন করা হয়েছে সন্দেহের বশে। ছ’টি মদ্যপ অবস্থায়। দু’টি শারীরিক সম্পর্ক অস্বীকার করার কারণে।
এছাড়াও পারিবারিক নির্যাতন, পণের জন্য চাপ দেওয়ার মতো অভিযোগও রয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, রাজ্যজুড়ে হামেশাই নির্যাতনের শিকার হন মহিলারা। জমা পড়ে গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগও। সমাজ বিজ্ঞানী অধ্যাপক ডিএন শর্মা বলেন, ‘সোনম রঘুবংশীর কাণ্ডের পর সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে মহিলাদের প্রতি যে বিরূপ মন্তব্য দেখা যাচ্ছে, তা নিছকই পুরুষতন্ত্রের আস্ফালন। স্বামীরা স্ত্রীকে খুন করেছেন, এমন নজির হাজার হাজার রয়েছে। এর উল্টোটা হলেই সমগ্র নারীজাতিকে খুনি হিসেবে দাগিয়ে দেওয়া হয়। খুন অত্যন্ত ঘৃণ্য কাজ। তার জন্য কোনও লিঙ্গকে অসম্মান করা উচিত নয়। স্ত্রীদের অপমান কেবল অন্যায্যই নয়, বিপজ্জনকও।’

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন