কলকাতা: এএফসি এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বের প্রতি গ্রুপে রয়েছে চারটি করে দল। এই চার দলের মধ্যে সর্বাধিক পয়েন্ট সংগ্রহকারী মূল পর্বের খেলার ছাড়পত্র পাবে। সোমবার হংকংয়ের কাছে শোচনীয় হারের পর টানা তৃতীয়বার মূল পর্বে খেলার সুযোগ কঠিন হয়ে গেল ভারতীয় দলের কাছে। কারণ এই মুহূর্তে হংকং ও সিঙ্গাপুরের পয়েন্ট চার। ভারত ও বাংলাদেশের সংগ্রহ এক পয়েন্ট। জাতীয় দলের এই পারফরম্যান্সে হতাশ কোচ সঞ্জয় সেন। তাঁর মন্তব্য, ‘খেলা দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল, একটা দল কীভাবে উদ্দেশ্যহীন ফুটবল খেলতে পারে? এতটা বাজে খেলার পর কোচ ও ফুটবলারদের উচিত, দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া।’ সামান্য থেমে তাঁর হতাশা আবার ফুটে উঠল, ‘ভারতের স্ট্রাইকার সমস্যা কারও অজানা নয়। তাই সুনীল ছেত্রীকে অবসর ভাঙিয়ে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তা সত্ত্বেও ওকে কেন প্রথম একাদশে রাখা হবে না? কেন সুহেল ভাটকে স্কোয়াডে রেখেও আপফ্রন্টে খেলানো হবে আশিক কুরুনিয়ানের মতো উইঙ্গারকে। আর তাই যদি করতে হয় তাহলে মনবীর তো প্রথম পছন্দ হওয়া উচিত। কারণ, ও স্ট্রাইকার পজিশনেও সফল। কোচ মানোলো মার্কুয়েজের একাধিক ভুল সিদ্ধান্তের জন্যই ভারতীয় ফুটবলের এই দুর্দশা।’
ভারতীয় দলের স্ট্রাইকার সমস্যা নতুন নয়। কিন্তু ফেডারেশন কর্তারা ‘পিঠে দিয়েছেন কুলো, আর কানে গুঁজেছেন তুলো।’ কে কার কথা শোনে! এই প্রসঙ্গে সঞ্জয়ের মন্তব্য, ‘চার বছর আগে এই হংকংকে ৪-০ গোলে হারিয়েছিলাম আমরা। তারাই আজ বিদেশি ফুটবলারদের নাগরিকত্ব দিয়ে দল শক্তিশালী করেছে। কিন্তু এই নিয়ম আমাদের দেশে সম্ভব নয়। তাই ফেডারেশনের রোল মডেল হওয়া উচিত উজবেকিস্তান। তাদের লিগে একজনও বিদেশি খেলোয়াড় খেলানো হয় না। প্রতিটি দল গ্রাসরুট ডেভেলপমেন্ট থেকে ফুটবলার তুলে এনে খেলায়। একটা সময় উজবেকিস্তান আমাদের থেকে অনেক পিছিয়ে ছিল। কিন্তু আজ তারাও বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করেছে। আর আমরা ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছি। এর চেয়ে খারাপ আর কী হতে পারে?’
জাতীয় দলে ভারতীয় কোচের দৌড়ে খালিদ জামিলের পাশাপাশি নাম ভাসছে সঞ্জয় সেনের। এই প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, ‘এখনও আমার কাছে কোনও প্রস্তাব আসেনি। তবে আগামী দিনে সুযোগ এলে তা কৃতজ্ঞচিত্তে গ্রহণ করব। জাতীয় দলের কোচিং করা গর্বের বিষয়।’
দৈন্যদশায় হাহাকার, সরব প্রাক্তনীরা
বাইচুং ভুটিয়া: হংকংয়ের কাছে হারের পর প্রাক্তন জাতীয় ফুটবলার হিসাবে আমি হতাশ। আগে আমরা এশিয়ান কাপের যোগ্যতা সহজেই অর্জন করতাম। উজবেকিস্তান, জর্ডনের মত দল বিশ্বকাপে খেলার ছাড়পত্র ছিনিয়ে নিচ্ছে। আর আমরা এশিয়ান কাপে খেলার জন্য লড়াই করছি। এই ব্যর্থতা ফেডারেশনের। অবিলম্বে হারের দায় মাথায় নিয়ে পদত্যাগ করা উচিত সভাপতি কল্যাণ চৌবের। কারণ, নিয়ামক সংস্থার মগডালে বসেও ভারতীয় ফুটবলের উন্নতিতে ব্যর্থ ও। দুর্নীতিতে ভরে গিয়েছে ফুটবল হাউস। খেলা নিয়ে ভাববে কে?
সুব্রত ভট্টাচার্য: আর কবে ফেডারেশনের শিক্ষা হবে কে জানে? বিদেশি কোচ দিয়ে যে কিছুই হচ্ছে না তা ফের প্রমাণিত। অনেক তো এলেন আর গেলেন। আমাদের ফুটবল কতটা এগল? উল্টে আরও পিছিয়ে যাচ্ছে। ফুটবল হাউজের কর্তাদের এবার স্বদেশি কোচের উপর আস্থা রাখা উচিত। অতীতে প্রদীপ ব্যানার্জী, অমল দত্তদের সাফল্য ভুলে গেলে চলবে না। ভারতীয় কোচরাই পারে দেশীয় ফুটবলারদের থেকে সেরাটা বের করে আনতে।
গৌতম সরকার: একটা দলের অপরিহার্য ফুটবলার যদি সুনীল ছেত্রী হয় তাহলে এটাই হওয়ার ছিল। গোটা দেশ থেকে একটা ভালো মানের স্ট্রাইকার তুলে আনতে পারেনি ফেডারেশন। ব্যর্থতা তাদের। দেশের ফুটবলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব নিয়ামক সংস্থার। কিন্তু ফুটবল হাউজ তাতে ডাহা ফেল। আর কবে দায় নেবেন কর্তারা?
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন