জলপাইগুড়ি: পাহাড়ে চড়াই নেশা। আর তাই বিয়ের দু'মাসের মাথায় আলিপুরদুয়ারের সুস্মিতা সরকার হানিমুন হিসেবে বেছে নিয়েছেন লাদাখ হিমালয়ের দুর্গম শৃঙ্গ পোলোগঙ্কা অভিযানকে। স্ত্রীর সঙ্গে এই পর্বত অভিযানে শামিল সুস্মিতার স্বামী সায়ন ঘোষ। অতীতে তিনিও একাধিক শৃঙ্গ অভিযান করেছেন।
সুস্মিতার কাছে এতবড় অভিযান এই প্রথম। এর আগে তিনি সাড়ে ১২ হাজার ফুট উঁচু কেদারকুণ্ড জয় করেছেন। আর এবার শামিল হচ্ছেন ২০ হাজার ৯৬০ ফুট উঁচু পোলোগঙ্কা শৃঙ্গ জয়ের অভিযানে। বলেন, ‘পাহাড়ে চড়তে গিয়েই সায়নের সঙ্গে আলাপ। ভালোলাগা। তারপর সাত পাকে বাঁধা পড়া। বিয়ের পর আমরা ঠিক করেছিলাম আলাদা করে হানিমুনে যাব না। দুর্গম শৃঙ্গ জয়ের লক্ষ্যে পর্বত অভিযানই হবে আমাদের হানিমুন। আমাদের ইচ্ছেকে উৎসাহ জুগিয়েছেন আমাদের দুই পরিবারের সদস্যরাই। তাঁদের সহযোগিতা না থাকলে এটা সম্ভব হতো না।’
উত্তরবঙ্গ থেকে এই প্রথম অ্যাডভেঞ্চার ক্লাবগুলি যৌথভাবে পর্বতারোহণে যাচ্ছে। এই টিমে রয়েছেন শিলিগুড়ির কলেজ ছাত্রী পিয়ালী বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘পর্বতারোহণের একাধিক কোর্স করেছি। কোর্সে যেসব শৃঙ্গ সামিট করানো হয়, সেগুলিও করেছি। কিন্তু প্রথমবার এতবড় অভিযানে যাচ্ছি। পোলোগঙ্কার দুর্গমতা জানি। কিন্তু সেই দুর্গমতাকে জয় করে ফিরে আসাটাই আমার কাছে চ্যালেঞ্জ।’
প্রায় ২১ হাজার ফুট উঁচু পোলোগঙ্কা শৃঙ্গ জয়ের লক্ষ্যে কাল, মঙ্গলবার রওনা দিচ্ছেন উত্তরের ১২ অভিযাত্রী। এতদিন আলাদা আলাদাভাবে অনেক শৃঙ্গ অভিযান হলেও এবার আলিপুরদুয়ার থেকে শিলিগুড়ি, উত্তরের ছ’টি অ্যাডভেঞ্চার ক্লাব একত্রিত হয়েছে ২০ হাজার ৯৬০ ফুট উঁচু হিমালয়ের এই দুর্গম শৃঙ্গ জয়ের লক্ষে। টিম লিডার জলপাইগুড়ির অভিজ্ঞ পর্বতারোহী ভাস্কর দাস। বাকিরা হলেন জয়ন্ত সরকার, সুজয় বণিক, ত্রিদিব সরকার, স্বরূপ খান, হীরক ব্রহ্ম, নবনীশ দত্ত, পিয়ালী বিশ্বাস, আমুল ঠাকুর, সায়ন ঘোষ, পার্থপ্রতিম দে এবং সুস্মিতা সরকার। এই ১২ জন অভিযাত্রী ছাড়াও লাদাখ থেকে দলের সঙ্গে দু’জন গাইড এবং দু’জন কিচেন স্টাফ যোগ দেবেন।
অভিযাত্রী দলের লিডার ভাস্কর দাস জানান, আগামীকাল, পয়লা জুলাই এনজেপি থেকে শুরু হবে যাত্রা। দিল্লি হয়ে অভিযাত্রীরা পৌঁছবেন হিমাচলের মানালি। সেখান থেকে দরচা ও লাদাখের সোকার লেক হয়ে দলটি ৭ জুলাই পৌঁছবে অভিযানের মূল শিবিরে, যার উচ্চতা প্রায় ১৬ হাজার ফুট। মূল শিবির বা বেস ক্যাম্পের উপরে বিভিন্ন উচ্চতায় স্থাপন করা হবে আরও দু’টি ক্যাম্প। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ১২ অথবা ১৩ জুলাই শৃঙ্গ জয়ের চেষ্টা করা হবে। সবটা ভালোভাবে সম্পন্ন হলে পর্বতারোহীদের উত্তরবঙ্গে ফিরে আসার কথা ১৯ জুলাই। ভাস্করের দাবি, দুর্গম হিমালয়ের পোলোগঙ্কা শৃঙ্গ জয় মোটেই সহজ নয়। এই শৃঙ্গ আরোহণ পর্বে অভিযাত্রীদের লাদাখের অক্সিজেন বর্জিত অঞ্চলের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হবে। উচ্চতাজনিত শারীরিক সমস্যা ছাড়াও প্রচণ্ড ঠান্ডা হাওয়া এবং সেইসঙ্গে শৃঙ্গ পথে পাহাড় থেকে আলগা পাথর গড়িয়ে আসার আশঙ্কা রয়েছে। সেসব প্রতিকূলতারও সম্মুখীন হতে হবে অভিযাত্রীদের।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন