কলকাতা: গতবছর এই সময়ের তুলনায় খুচরো বাজারে আলুর দাম অনেকটাই কম থাকায় সাধারণ মানুষ স্বস্তি পেয়েছেন। কিন্তু যে কৃষক ও অন্যান্য সংরক্ষণকারীরা হিমঘরে আলু রেখেছেন তাঁরা এখন লোকসানের মুখে পড়েছেন। নতুন আলু ওঠার পর যে দামে তা বিক্রি হয়েছিল এখন হিমঘরের আলুর বন্ডের দাম তার থেকেও অনেকটা কম। হিমঘরে বেশি পরিমাণ আলু মজুত হওয়া এবং ভিন রাজ্যে চাহিদা কম থাকার জন্য এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে কৃষি বিপণন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এবার রাজ্যের হিমঘরগুলিতে রেকর্ড পরিমাণ ৭৪ লক্ষ টন আলু মজুত করা হয়েছে।
সাধারণ ক্রেতারা এখন খুচরো বাজারে ২০ টাকা কেজি দরের আশপাশে জ্যোতি আলু কিনছেন। গতবছর এইসময় দাম ছিল ২৫ টাকার বেশি। এবার হিমঘর থেকে প্রতি ৫০ কেজি আলুর বস্তার বন্ড বিক্রি হচ্ছে ৩৫০-৪০০ টাকার মধ্যে। গতবছর তা ছিল ৮০০-১০০০ টাকা। এবার বন্ডের নিরিখে প্রতি কেজি আলুর দাম পড়ছে ৭-৮ টাকা। বন্ড কেনার পর হিমঘরের ভাড়া সহ আরও কিছু খাতে খরচ হয়। সেইসব খরচ করে এখন হিমঘর থেকে আলু বেরচ্ছে ১৩-১৪ টাকায়। প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি লালু মুখোপাধ্যায় জানান, নতুন আলু ওঠার পর চাষিরা মোটামুটি কেজিতে ১০ টাকা দাম পেয়েছিলেন। হিমঘরে সেই আলু মজুত করতে মোট খরচ হয়েছিল ১১ টাকা। সেই খরচ বন্ড বিক্রি করে মিলছে না। রাজ্য সরকার ৫০০ টাকা দরে ৫০ কেজি আলুর বন্ড কিছু কিনলে চাষিদের ক্ষতি অন্তত হবে না। হিমঘরে যে আলু মজুত আছে তার বেশিরভাগটাই চাষিদের। এবার নতুন আলু ওঠার পর দাম কম থাকায় পরে বেশি দাম পাওয়ার আশায় চাষিরাই বেশি আলু হিমঘরে মজুত রেখেছেন। চাষিদের কাছ থেকে আলুর বন্ড কিনে ব্যবসায়ীরা বাজারে সরবরাহ করেন।
রাজ্য সরকারের খাদ্যসামগ্রী সংক্রান্ত টাস্ক ফোর্সের সদস্য কমল দে জানান, কলকাতার পাইকারি বাজারে আলু, পেঁয়াজসহ গ্রীষ্মের বিভিন্ন সব্জির দাম কম আছে। পাইকারি বাজারে জ্যোতি আলু বিক্রি হচ্ছে ১৬-১৭ টাকা কেজি দরে। ব্যবসায়ী মহলের বক্তব্য, হিমঘর থেকে বেরনোর পর যে খুচরো ও পাইকারি বিক্রেতাদের মাধ্যমে আলু বাজারে আসে তাঁরা কিন্তু যথারীতি লাভ করছেন। ক্ষতি হচ্ছে চাষিদের এবং অন্য যাঁরা হিমঘরে আলু রেখেছেন তাঁদের।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন