নয়াদিল্লি ও বেঙ্গালুরু: চেনাব সেতু। বিশ্বের উচ্চতম রেলওয়ে ব্রিজ। জম্মু ও কাশ্মীরে ১ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকায় তৈরি এই সেতু শুক্রবার উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই ‘বিস্ময় স্থাপত্যে’র নির্মাণকাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে এক মহিলা ইঞ্জিনিয়ার তথা জিওটেকনিক্যাল বিশেষজ্ঞের। তাঁর নাম জি মাধবীলতা। আইআইএসসি বেঙ্গালুরুর এই অধ্যাপিকা গত ১৭ বছর ধরে এই প্রকল্পের বাস্তবায়নে দিনরাত এক করেছেন। প্রকল্প শুরুর প্রথম দিন থেকে তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন এই বিস্ময় সেতুকে।
এতটা উচ্চতায় দুই পাহাড়ের সংযোগকারী এই বিশাল সেতু নির্মাণ প্রতি পদে ছিল চ্যালেঞ্জ। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, খাড়া ঢাল, একই জায়গায় বিভিন্ন চরিত্রের পাথর, প্রকল্পস্থলের নীচে দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী, হাওয়ার উচ্চ গতিবেগ, প্রতিকূল পরিবেশ— সব মিলিয়ে কাজটা ছিল বিস্তর কঠিন। একেবারে শুরুতে নির্মাণকারী দলের ওই জায়গায় পৌঁছনোটাও ছিল অসম্ভমের শামিল। দুর্গম স্থানে ভারী ভারী নির্মাণ সরঞ্জাম কীভাবে পৌঁছবে, তা ভেবে পাচ্ছিলেন না। নির্মাণকারী সংস্থা সূত্রে খবর, শুরুর দিকে ওই এলাকায় পৌঁছনোর একমাত্র ভরসা ছিল ঘোড়া ও খচ্চর। পরে ধীরে ধীরে অস্থায়ী রাস্তা তৈরি করা হয়। গত ১৭ বছর ধরে এরকমই হাজারো প্রতিকূলতাকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়েছেন মাধবীলতা ও তাঁর দলের সদস্যরা। চেনাব সেতুকে বাস্তবের রূপ দিয়েছেন তাঁরা।
মাধবীলতা বর্তমানে আইআইএসসির হায়ার অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ গ্রেড (এইচএজি) অধ্যাপিকা পদে কর্মরত। তিনি ১৯৯২ সালে জওহরলাল নেহরু টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বি.টেক করেন। ডিসটিংশনের সঙ্গে ফার্স্টক্লাস পান। এরপর ওয়ারঙ্গলের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে এম.টেক পড়ুয়া হিসেবে গোল্ড মেডেল অর্জন। ২০০০ সালে আইআইটি মাদ্রাজ থেকে জিওটেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডক্টরেট করেন মাধবীলতা। অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বহু পুরস্কারও পেয়েছেন। ২০২১ সালে সর্বশ্রেষ্ঠ মহিলা জিওটেকনিক্যাল গবেষকের সম্মান পান। ২০২২ সালে স্টেম অব ইন্ডিয়ার শীর্ষ ৭৫ মহিলার তালিকায় নাম ছিল তাঁর। এবার বিশ্বের উচ্চতম রেলসেতুর ‘নেপথ্যের নায়িকা’ হিসেবে গোটা দেশ কুর্নিশ জানাচ্ছে এই মহিলা স্থপতিবিদকে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন