নয়াদিল্লি, ২৩ জুন: ‘রাজায় রাজায় যুদ্ধ করে প্রাণ যায় উলুখাগড়ার,’ এই প্রবাদ বাক্যই এখন স্মরণ করছে আমজনতা। কারণ ইরান ও ইজরায়েলের যুদ্ধে আমেরিকা প্রবেশ করতেই টালমাটাল বিশ্ব বাজার। অশান্তি বেড়েছে পশ্চিম এশিয়ায়। যার ফলে অস্থির গোটা বিশ্বের বাজার। হু হু করে দাম বাড়ছে জ্বালানি তেলেরও। যার ফলে পকেট পুড়বে আমজনতার। ইরানের তিন পরমাণু কেন্দ্রে আমেরিকা হামলা চালানোর পর উত্তেজনা বেড়ে গিয়েছে পশ্চিম এশিয়ায়। মার্কিনি হামলায় বড়সড় কোনও ক্ষতি হয়নি এমনটা ইরান দাবি করলেও, ক্ষোভে ফুঁসছেন তারা। যার ফলে তড়িঘড়ি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধের পথে এগোচ্ছে তেহরান।
ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালী বন্ধের প্রস্তাব পাস হয়েছে ইরানের পার্লামেন্টে। আর একধাপ পেরোলে অর্থাৎ সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিওরিটি কাউন্সিলের সবুজ সঙ্কেতের পর বন্ধ করে দেওয়া হবে এই গুরুত্বপূর্ণ করিডর। সেই আতঙ্কেই অস্থির এশিয়া এমনকী ইউরোপের শেয়ার মার্কেট। একলাফে ২ শতাংশের বেশি দাম বেড়েছে জ্বালানি তেলেরও। আমেরিকায় অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্য ২.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেলের দাম দাঁড়িয়েছে ৭৫.৯৮ ডলারে। ব্রেন্ট ব্যারেল প্রতি ৭৯.১২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গতকাল, রবিবারই এর দাম ব্যারেল প্রতি ৭৭ ডলারে ছিল। শেয়ার বাজারেও পতন দেখা দিচ্ছে। নাসডাক ফিউচারস-এর সূচক পড়েছে ০.৭ শতাংশ পড়েছে। বাজার খুলতেই এশিয়ার মার্কেটে একাধিক সংস্থার শেয়ারের দাম পড়েছে। সূচকও নিম্নগামী।
জাপানের টোকিওর নিককেই ইনডেক্স ০.৬ শতাংশ পড়েছে। সিওল পড়েছে ১.৪ শতাংশ। ভারতের শেয়ার বাজারেও পতন শুরু হয়েছে। আজ, সোমবার ‘রেড জোনে’ খোলে শেয়ার বাজার। সেনসেক্স পড়েছে ৭৫১ পয়েন্ট। ২২৩ পয়েন্ট পড়েছে নিফটিও। মূলত আমজনতার টাকা থাকে শেয়ার মার্কেটে। যুদ্ধের আবহে শেয়ার বাজারের পতন হলে ব্যাপক ক্ষতি হবে সাধারণ মানুষেরই। পারস্য উপসাগর থেকে হরমুজ প্রণালী হয়ে প্রচুর পরিমাণে জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহ হয় গোটা বিশ্বে। সেই পথ বন্ধ হয়ে গেলে সঙ্কট নেমে আসবেই। ভারতের ক্ষেত্রে সরাসরি প্রভাব না পড়লেও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছেই।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন