নয়াদিল্লি: মোদি সরকারের উপর ভরসা নেই দেশের সাফাই কর্মচারীদের! তাঁদের আর্থ সামাজিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যে গৃহীত কর্মসূচিতে প্রায় কোনও রাজ্যেই সাফাই কর্মচারীদের থেকে বিশেষ সাড়া মিলছে না। কেরল এবং আরও গুটিকয়েক রাজ্য বাদে দেশের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মসূচির আওতায় ঋণ নেওয়ার হার প্রায় শূন্য। এমনকী বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতেও একই পরিস্থিতি। তাহলে কি ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারেও বিশেষ আস্থা রাখতে পারছেন না দেশের সাফাই কর্মচারীরা? সামাজিক ন্যায়বিচার মন্ত্রকের একটি সাম্প্রতিক রিপোর্টকে কেন্দ্র করে আপাতত এমনই প্রশ্ন উঠছে।
এই রিপোর্ট দেখে মাথায় হাত পড়েছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের। এই ব্যাপারে অবশ্য সামাজিক ন্যায়বিচার মন্ত্রকের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। এই বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন মন্ত্রকের কর্তাব্যক্তিরা। দেশের সাফাই কর্মচারীদের আর্থ সামাজিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যে তাঁদের জন্য ঋণ প্রদান কর্মসূচি ইতিপূর্বে চালু করেছে কেন্দ্র। তৈরি হয়েছে ন্যাশনাল সাফাই কর্মচারিস ফিনান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (এনএসকেএফডিসি)। সামাজিক ন্যায়বিচার মন্ত্রকের উল্লিখিত রিপোর্টে ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরে ঋণ নেওয়ার রাজ্যভিত্তিক তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট রিপোর্টে ওই পরিসংখ্যানের উল্লেখ করা হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, উল্লিখিত সময়ে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মসূচির আওতায় সারা দেশে মাত্র ১৪ হাজার ১৪৮ জন সাফাই কর্মচারী উপকৃত হয়েছেন। তার মধ্যে শুধু কেরলেই এহেন সাফাই কর্মচারীর সংখ্যা ১৩ হাজার ৯০৮ জন। বাকি জম্মু-কাশ্মীরে ১৩১ জন, মহারাষ্ট্রে ৬৩ জন, হরিয়ানায় ২৩ জন, গুজরাতে ২১ জন এবং উত্তরাখণ্ডে দু’জন উপকৃত হওয়ার তালিকায় আছেন।
সারা দেশে সবমিলিয়ে ঋণ প্রদান হয়েছে ৮ হাজার ৯৪০ কোটি টাকার। এর মধ্যে কেরলেই এর পরিমাণ ৮ হাজার ৩৫৪ কোটি টাকা। বিজেপি শাসিত রাজ্যের মধ্যে অসম, বিহার, মধ্যপ্রদেশ, ওড়িশা, ত্রিপুরা, উত্তরপ্রদেশের মতো জায়গায় উল্লিখিত সময়সীমা পর্যন্ত এক টাকাও ঋণ নেওয়া হয়নি। ফলে উপভোক্তার সংখ্যাও শূন্য।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন