কলকাতা ও নয়াদিল্লি: অবিলম্বে পশ্চিমবঙ্গে ১০০ দিনের কাজ চালু করতে হবে। সময়সীমা ১ আগস্ট। এই ছিল কেন্দ্রীয় সরকারকে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ। তারপর ১২ দিন কেটে গিয়েছে। বাকি আর এক মাস। অথচ এখনও বাংলার প্রাপ্য পড়ে রয়েছে মোদি সরকারের ঠান্ডাঘরেই। বরাদ্দ ঘোষণা, শ্রমদিবস ঠিক করা দূরঅস্ত, মনরেগা আইনের আওতায় আরোপ করা ২৭ নম্বর ধারা পর্যন্ত এখন পর্যন্ত বাংলার উপর থেকে প্রত্যাহার করেনি কেন্দ্র। ১০০ দিনের কাজে দুর্নীতির অভিযোগ পেলে এই ধারা আরোপ করে থাকে কেন্দ্র। নবান্ন থেকে বারবার তার জবাব দেওয়া, টাকা উদ্ধার এবং অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট পাঠানো সত্ত্বেও গা করেনি ভারত সরকার। করছে না আদালতের নির্দেশের পরও। তাই এখন রাজ্যের সঙ্গে এই ইস্যুতে কোনওরকম যোগাযোগই দিল্লি থেকে করা হয়নি। নেওয়া হয়নি কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ।
এই অবস্থায় খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে মোদি সরকারের ভূমিকা নিয়ে। তৃণমূলের অন্দরমহল থেকে ঘটছে ক্ষোভের বিস্ফোরণ—আদালতের নির্দেশের পরও কি শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থে বাংলাকে ভাতে মারার কৌশলে আটকে থাকবে দিল্লি? তাহলে এতদিনে কোনও না কোনও পদক্ষেপ কেন্দ্র করত। রাজ্য সরকারকেই এই প্রকল্প রুপায়ণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিতে হয়। সেই ক্ষেত্রে কেন্দ্র বলা মাত্র রাজ্যজুড়ে ১০০ দিনের কাজ চালু করা সম্ভব নয়। তিন বছর কাজ বন্ধ থাকার পর পুরো ‘সিস্টেম’ বা প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাকে কার্যকর করাটা বেশ সময়সাপেক্ষ। উপরন্তু রয়েছে কেন্দ্রে ‘শর্তে’র খাঁড়া। কারণ হাইকোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় সরকার বাংলার উপর শর্ত চাপাতেই পারে। নবান্নের অন্দরের অনুমান, এই সুযোগ কোনওভাবেই মোদি সরকার হাতছাড়া করবে না। সেক্ষেত্রে ‘চাপানো নতুন শর্ত’ নিয়ে জেলায় জেলায় দায়িত্বে থাকা অফিসারদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। জানা যাচ্ছে, এখনও শিবরাজ সিং চৌহানের গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক এই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর সবুজ সঙ্কেতের অপেক্ষাতেই রয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করা হবে? নাকি মেনে নেওয়া হবে? এই নিয়েই দোটানায় রয়েছে কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী বিদেশ যাচ্ছেন। ফলে তিনি ফেরার পরই এব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে। সোমবারই গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের সচিব শৈলেশকুমার সিং ‘বর্তমান’কে বলেন, ‘আমি কিছু বলতে পারব না। এখনও কিছু ঠিক হয়নি।’ এই ব্যাপারে রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদারের তোপ, ‘আদালত কান মুলে দিয়েছে। তারপরও আমাদের কাছে কোনও বার্তা আসেনি। কেন্দ্রের এই বঞ্চনা সব সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।’
কেন্দ্রের উপর চাপ অবশ্য বাড়ছে। সোমবার গ্রামোন্নয়ন সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বিরোধী সাংসদরা দাবি তুলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে ১০০ দিনের কাজ আদালত নির্ধারিত ১ আগস্ট থেকে শুরু করতে হবে। এদিনের বৈঠকের এজেন্ডা ছিল, ১০০ দিনের কাজের মাধ্যমে গ্রামে কর্মসংস্থান। সেই মতো গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের সচিব সহ কয়েকজন বিশেষজ্ঞকে ডাকা হয়েছিল। কংগ্রেস সাংসদ সপ্তগিরি উল্কার সভাপতিত্বে সেখানেই প্রসঙ্গক্রমে বাংলায় প্রকল্পের কাজ বন্ধ এবং টাকা আটকে রাখার বিষয়টি ওঠে। বৈঠকে তৃণমূলের কোনও সদস্য না থাকলেও কংগ্রেস সহ বিরোধীরা বাংলার পাশেই দাঁড়িয়েছেন।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন