নয়াদিল্লি: একাকিত্ব। সমাজ থেকে ক্রমে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে নেওয়ার প্রবণতাই এবার অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে গোটা বিশ্বে। একা থাকাই এবার প্রাণ কাড়তে শুরু করেছে অসংখ্য মানুষের। সোমবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে প্রকাশিত এক রিপোর্টে ধরা পড়ল সেই ছবি। বিশ্বে প্রতি ছ’জনের মধ্যে একজন একাকিত্বে আক্রান্ত। আর এর জেরেই প্রতি ঘণ্টায় ১০০ জনের মৃত্যু হচ্ছে। বছরে সংখ্যাটা প্রায় ৮ লক্ষ ৭১ হাজার।
রিপোর্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, একাকিত্বের শিকার প্রায় সব বয়সের মানুষ। তবে যুব সম্প্রদায় এবং নিম্ন-মধ্য আয় সম্পন্ন দেশগুলিতে জাঁকিয়ে বসেছে এই গভীর অসুখ। এক্ষেত্রে ১৩-২৯ বছর বয়সিদের ১৭-২১ শতাংশ একাকিত্বের শিকার। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কম আয় সম্পন্ন দেশগুলিতে জনসংখ্যার ২৪ শতাংশ একাকিত্বের গ্রাসে। যদিও উচ্চ আয় সম্পন্ন দেশে চিত্রটা অন্যরকম। এখানে একাকিত্বের হার ১১ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের কথায়, মূলত স্বাস্থ্যের অবনতি, পর্যাপ্ত রোজগার, শিক্ষা ও সামাজিক পরিকাঠামোর অভাব মানুষজনকে একা করে দিচ্ছে। শারীরিক অক্ষমতার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক প্রতিবন্ধকতার জেরেও নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছেন অনেকে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকারও হচ্ছেন। আর একলা হয়ে পড়ছেন। এর জেরে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস সহ একাধিক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। কম বয়সেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন তাঁরা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক আধিকারিক বিবেক মূর্তি জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে বিশ্বের কাছে অন্যতম চ্যালেঞ্জ হল একাকিত্ব। রিপোর্টে সেই বিষয়টি তুলে ধরার পাশাপাশি তা থেকে মুক্তি পাওয়ার পথও দেখানো হয়েছে। সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা ও দীর্ঘদিন ভালোভাবে বেঁচে থাকার অন্যতম ওষুধ হল নিজের পরিসর বাড়ানো। নিজেকে আরও সামাজিক করে তোলা।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন