নয়াদিল্লি: ভোটার তালিকা শুদ্ধিকরণ না ঘুরপথে এনআরসির ছক? বাবা-মায়ের জন্মতারিখ ও জন্মস্থানের প্রমাণ দেওয়ার ইস্যুতে গর্জে উঠেছিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সাফ দাবি, বিহার তো বাহানা, নির্বাচন কমিশনের আসল টার্গেট বাংলাই। আসলে তৃণমূল সমর্থকদের বাদ দিয়ে, ‘বহিরাগত’দের নাম ভোটার তালিকায় ঢোকানোর ষড়যন্ত্র করছে মোদি সরকার। সরব হন বিহারের বিরোধী দলনেতা আরজেডির তেজস্বী যাদবও। এরপরই ভোটার তালিকার স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) নিয়ে ঢোঁক গিলতে বাধ্য হল নির্বাচন কমিশন। সোমবার রীতিমতো বিবৃতি দিয়ে তারা জানিয়ে দিল, বিহারে ২০০৩ সালের ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের কোনও নথি দিতে হবে না। স্রেফ এনিউমেরেশন ফর্ম ভরলেই চলবে। এমনকী, তাঁদের সন্তানরাও বাবা-মায়ের নথি দেওয়ার হাত থেকে মুক্তি পাচ্ছেন। তবে নিজেদের নাগরিকত্বের প্রমাণ আর এনিউমেরেশন ফর্ম ‘ফিল-আপ’ করতে হবে।
বিহারের মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ৭ কোটি ৮৯ লক্ষ। এর মধ্যে ৪ কোটি ৯৬ লক্ষের নাম রয়েছে ২০০৩ সালের ভোটার তালিকায়। এদিন সেই তালিকা প্রকাশ করেছে কমিশন। সেই সঙ্গে জানানো হয়েছে, এই ৪ কোটি ৯৬ লক্ষ ভোটারকে নতুন করে বয়সের প্রমাণপত্র বা জন্মস্থানের প্রমাণপত্র দিতে হবে না। তাঁদের ছেলেমেয়েদেরও এই শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়ার জন্য বাবা-মার কোনও নথি দিতে হবে না। স্রেফ ২০০৩ সালের ভোটার তালিকায় নাম আছে উল্লেখ করলেই চলবে। তাছাড়া এখন খসড়া তালিকা তৈরি হচ্ছে। যাঁদের কাছে কোনও ডকুমেন্ট নেই, তাঁরাও এনিউমেরেশন ফর্ম ‘ফিল-আপ’ করতে পারবে। তবে যখন ফাইনাল তালিকা তৈরি হবে, তার আগে বুথ লেভেল অফিসারকে নথি দেখাতে হবে। নির্বাচন কমিশনের মতে, বিহারে এই ভোটার তালিকা শুদ্ধিকরণে মধ্যে কোনও বিতর্ক নেই। সংবিধানের ৩২৬ অনুচ্ছেদ মোতাবেকই তা করা হচ্ছে। রাজ্যের কোনও ভোটারই যাতে ভোটাধিকার থেকে বাদ না পড়ে, সেই লক্ষ্যে এই উদ্যোগ। একইসঙ্গে কোনও অবৈধ ভোটারের নাম যাতে তালিকায় না থাকে তা সুনিশ্চিত করা।
যদিও গত ২৪ জুন নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগে যাঁরা বিহারে জন্মেছেন, তাদের নাগরিকত্বের সমর্থনে যথাযোগ্য নথি এবং ‘ঘোষণাপত্র’ দিলেই চলবে। যাঁরা ১৯৮৭ সালের ১ জুলাই থেকে ২০০৪ সালের ২ ডিসেম্বরের মধ্যে জন্মেছেন, তাদের নিজের তো বটেই, সঙ্গে বাবা অথবা মায়েরও জন্মতারিখ-জন্মস্থানের প্রমাণপত্র লাগবে। আর যাঁরা ২০০৪ সালের ২ ডিসেম্বরের পর জন্মেছেন, তাঁদের নিজের পাশাপাশি বাবা-মা দু’জনেরই জন্মতারিখ অথবা জন্মস্থানের প্রমাণপত্র দিতে হবে। কিন্তু পরিযায়ী শ্রমিকদের মতো অনেকেই এত শর্ত মানতে পারবেন কি না, সেই জল্পনা শুরু হয়। সন্দেহ প্রকাশ করেন মমতাও। বিষয়টিকে মোদি সরকারের ষড়যন্ত্র বলেই দাবি করে বিরোধীরা। এদিন কমিশন ঢোঁক গেলায় ও নতুন নির্দেশে সেই সমস্যা কিছুটা হলেও কাটল। তবু আজ, মঙ্গলবার বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করতে চলেছে তৃণমূলের পাঁচ সদস্যর একটি টিম।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন