কাটোয়া: ছোটবেলা থেকেই ফুলগাছের প্রতি তাঁর অগাধ ভালোবাসা। আর এখন বাড়ির ছাদজুড়ে যেন স্বর্গ তৈরি করেছেন তিনি। পূর্বস্থলীর যুবক বাড়ির ছাদেই ৪২টি প্রজাতির পদ্ম চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। বিদেশি পদ্মফুল দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন প্রতিবেশীরাও। ছাদে এমন পদ্ম চাষ করে বিকল্প আয়ের রাস্তা দেখাচ্ছেন ওই যুবক। সকলকে দিচ্ছেন স্বনির্ভর হওয়ার বার্তা।
পূর্বস্থলী-২ ব্লকের মেড়তলা পঞ্চায়েতের দক্ষিণ সাজিয়াড়া গ্রামের বাসিন্দা উৎসব ঢালি। পেশায় কৃষক বাবা স্বপন ঢালি ও মা প্রভাতীদেবীকে নিয়ে তিনজনের সুখী পরিবার। বিএ পাশ করে বর্তমানে চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন উৎসব। তার পাশাপাশি নিজের ভালোবাসা থেকেই বাড়ির একফালি ছাদে বিভিন্ন আকারের গামলায় ফুটিয়েছেন লাল, হলুদ, গোলাপি, সবুজ, সাদা রংয়ের পদ্ম। তাঁর সংগ্রহে ভারতীয় প্রজাতির মধ্যে রয়েছে সিতারা, ঐশ্বর্য, ইন্দুলেখা, শ্বেতা, মোহং থেকে বাটার মিল্ক। পাশাপাশি তাঁর বাগানে থাইল্যাণ্ডের নানা প্রজাতির পদ্ম ফুটে রয়েছে। রেড পেঙ্গুইন, রেড অ্যামিইটি, সরস্বতী, বাটার মিল্ক, জুলিয়েট, ডিলান সহ নানা প্রজাতির পদ্ম রয়েছে তাঁর ছাদ-বাগানে। একা হাতেই সমস্ত পরিচর্যা করেন উৎসব।
উৎসব বলেন, ছোট থেকেই ফুলগাছের প্রতি ব্যাপক টান অনুভব করতাম। তাই ইউটিউব দেখে বাড়ির ছাদজুড়ে পদ্ম চাষ করি। এখনও পর্যন্ত আমার সংগ্রহে ৪২ প্রজাতির পদ্ম রয়েছে। এছাড়াও আরও নানা প্রজাতির পদ্ম চাষের ইচ্ছা রয়েছে।
ওই যুবক কলকাতা, উত্তর দিনাজপুর থেকে বীজ সংগ্রহ করেছেন। তারপর যত্ন সহকারে বাড়ির ছাদে পদ্ম চাষ করেছেন। পূর্ব বর্ধমান জেলার উদ্যানপালন দপ্তরের অফিসার সুদীপ ভকত বলেন, খুব ভালো উদ্যোগ। এটা থেকে বিকল্প আয় করা যায়। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারাও এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে এমন উদ্যোগ নিতে পারেন।
ফি বছর দুর্গাপুজোর সময় পদ্মের আকাল দেখা দেয়। এরকম দেশি-বিদেশি পদ্মের জোগান বাড়াতে পারলে আয় ভালোই হবে, তা বলাই বাহুল্য। তাছাড়া ইন্দুলেখা প্রজাতির পদ্ম সব থেকে দামি। তাই নিজের বাড়ির একফালি ছাদেই বড় পাত্র বা গামলায় এমন পদ্মের চাষ করতে পারেন অনেকেই। এরকম পদ্মের চাহিদা রয়েছে তামিলনাড়ু, চেন্নাই, কেরল, লখনউ, মণিপুর, অসম, ত্রিপুরা এবং ওড়িশাতেও। সেখানে এরকম পদ্মের জোগান দিতে পারলে মাসে প্রায় ২০ হাজার টাকার বেশি আয় হতে পারে। যদিও পূর্বস্থলীর উৎসব জানিয়েছেন, শুধুমাত্র নিজের শখের জন্যই তিনি এমন বাগান করেছেন। মা প্রভাতীদেবী বলেন, ছোট থেকেই আমার ছেলের গাছপালার দিকে ঝোঁক। এখন বাড়ির ছাদে নানা রকমের পদ্মফুল ফুটেছে। পদ্ম দেখতে প্রতিবেশীরা প্রায়ই ছাদে আসছেন। তাঁরা নানা ধরনের বিদেশি পদ্মের সঙ্গেও পরিচিত হচ্ছেন। এটা আমার খুব ভালো লাগছে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন