মহাকাশ পর্যবেক্ষকদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ আগত। কারণ বছরের অন্যতম চিত্তাকর্ষক মহাজাগতিক ঘটনা জেমিনিড উল্কাবৃষ্টি এই সপ্তাহান্তে তার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছাবে। এই বার্ষিক উল্কাবৃষ্টি শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর রাতে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকবে। রবিবার, ১৪ই ডিসেম্বর ভোর পর্যন্ত চলবে এই উল্কাবৃষ্টি। যারা সঠিক সময়ে আকাশের দিকে তাকাবেন, তারা উল্কাপাতের এক চমৎকার দৃশ্য দেখতে পাবেন বলে জানিয়েছে Space.com।
যদিও জেমিনিড উল্কাগুলো সারারাতই দেখা যেতে পারে। তবে এগুলো দেখার সেরা সময় হলো মধ্যরাতের পর থেকে ভোর হওয়ার আগ পর্যন্ত। সাধারণত এই ভোরের দিকেই সবচেয়ে বেশি উল্কা দেখা যায়। এর কারণ হল, মিথুন (Gemini) নক্ষত্রমণ্ডল। এখান থেকে ইউল্কাগুলো আসছে বলে মনে হয়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা আকাশে আরও উপরে ওঠে। এই সময়ে পৃথিবী ৩২০০ ফেথন নামের গ্রহাণুটির রেখে যাওয়া ধূলিকণার স্রোতের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে। এর ফলে আরও বেশি উল্কা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে এবং জ্বলে ওঠে। যদি আকাশ মেঘমুক্ত ও পরিষ্কার থাকে, তবে দর্শকরা সর্বোচ্চ সময়ে ঘণ্টায় প্রায় ১৫০টি উল্কা দেখতে পাবেন।
জেমিনিড উল্কাবৃষ্টি সাধারণত সন্ধ্যায় শুরু হয়। তাই এটি দেখার জন্য সারারাত জেগে থাকার প্রয়োজন নেই। তবে, যারা ১৪ ডিসেম্বর ভোরে বাইরে বের হবেন, তাদের উজ্জ্বল উল্কা এবং আলোর দীর্ঘ রেখা দেখার সম্ভাবনা বেশি থাকবে। এই উল্কাবৃষ্টির নামকরণ করা হয়েছে মিথুন (Gemini) নক্ষত্রমণ্ডলের নামে। কারণ উল্কাগুলো সেই দিক থেকেই আসছে বলে মনে হয়। মিথুন নক্ষত্রমণ্ডলটি কালপুরুষ (Orion) নক্ষত্রমণ্ডলের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত এবং বৃষ (Taurus) ও কর্কট (Cancer) নক্ষত্রমণ্ডলের মাঝে দেখা যায়। এর দুটি উজ্জ্বল নক্ষত্র- ক্যাস্টর এবং পোলক্সের জন্যএকে শনাক্ত করা সহজ। বিশেষজ্ঞরা মিথুন নক্ষত্রমণ্ডলের কেন্দ্রবিন্দুর দিকে সরাসরি না তাকানোর পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ সেখানে উল্কাগুলো ছোট দেখায় এবং তা চোখ এড়িয়ে যেতে পারে। এর পরিবর্তে, মিথুন থেকে কিছুটা দূরে আকাশের সবচেয়ে অন্ধকার অংশের দিকে মনোযোগ দিন। সেরা অভিজ্ঞতার জন্য, আপনার চোখকে অন্ধকারের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য অন্তত ৩০ মিনিট সময় দিন। এরপর বছরের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ও সুন্দর মহাজাগতিক ঘটনাটি উপভোগ করুন।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন