মার্কিন বিদেশ দপ্তরে এই মাসের শুরুতে কাজের অনুমতিপত্র নবীকরণের জন্য ভারতে ফিরে আসা শত শত H-1B ভিসা ধারী আটকা পড়েছেন। কারণ তাদের সাক্ষাৎকারের তারিখ আকস্মিকভাবে আগামী বছর পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই কর্মীদের সাক্ষাৎকার ১৫ থেকে ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্ধারিত ছিল, যা মার্কিন ছুটির মৌসুমের সঙ্গেও মিলে যায়।
জানা গিয়েছে, ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি থেকে শেষের দিকে নির্ধারিত সাক্ষাৎকারগুলো আগামী বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনেক শীর্ষস্থানীয় আইন সংস্থা জানিয়েছে যে তাদের শত শত মক্কেল ভারতে আটকা পড়েছেন। ভারতে একজন অভিবাসন আইনজীবী বীণা বিজয় অনন্ত সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে বলেন, "এটি আমরা দেখা সবচেয়ে বড় বিশৃঙ্খলা। আমি নিশ্চিত নই যে তাদের কোনো পরিকল্পনা আছে।" ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুসারে, ডেট্রয়েটের শহরতলিতে বসবাসকারী একজন ব্যক্তি এই মাসে একটি বিয়ের জন্য ভারতে ফিরে এসেছিলেন এবং তার ১৭ ও ২৩ ডিসেম্বর কনস্যুলার সাক্ষাৎকার নির্ধারিত ছিল। তবে, এখন সেগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা উদ্বিগ্ন যে, যে কোম্পানিগুলোর জন্য তারা কাজ করছেন, তারা তাদের ফেরার জন্য আর কতদিন অপেক্ষা করতে ইচ্ছুক। বিদেশ দপ্তর একটি ইমেলের মাধ্যমে ভারতীয় কর্মীদের জানিয়েছে যে নতুন সোশ্যাল মিডিয়া যাচাই নীতির কারণে তাদের সাক্ষাৎকার বিলম্বিত হয়েছে। এর লক্ষ্য হল "নিশ্চিত করা যে কোনো আবেদনকারী মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা বা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি না হন"।
ভারতে মার্কিন দূতাবাস ৯ ডিসেম্বর একটি পরামর্শ জারি করে সতর্ক করেছে যে, পুনঃনির্ধারিত তারিখ সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পরেও পূর্বনির্ধারিত সাক্ষাৎকারের তারিখে কনস্যুলেটে আসা কোনো ভিসা আবেদনকারীকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এতে বলা হয়েছে, "আপনি যদি একটি ইমেল পেয়ে থাকেন যেখানে জানানো হয়েছে যে আপনার ভিসার সাক্ষাৎকারের সময়সূচী পরিবর্তন করা হয়েছে, তবে মিশন ইন্ডিয়া আপনার নতুন সাক্ষাৎকারের তারিখে আপনাকে সহায়তা করার জন্য উন্মুখ। আপনার পূর্বনির্ধারিত সাক্ষাৎকারের তারিখে উপস্থিত হলে আপনাকে দূতাবাস বা কনস্যুলেটে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।"
এপ্রিল মাসের মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস)-এর একটি প্রতিবেদন অনুসারে, এইচ-১বি ভিসা ধারীদের ৭১ শতাংশই ভারতীয়।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন