বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশে হিংসা একটি সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার হয় তা অস্বীকার করছে অথবা তা থামাতে ক্ষমতাহীন। সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক ইমেল সাক্ষাৎকারে হাসিনা বাংলাদেশে শান্তি বজায় রাখতে ব্যর্থতার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
জুলাই মাসের আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী রাজনৈতিক কর্মী শরীফ ওসমান হাদীর মৃত্যু বাংলাদেশে নতুন করে হিংসার জন্ম দিয়েছে। গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় রিকশায় থাকা অবস্থায় ওসমান হাদীকে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়। তিনি মাথায় আঘাত পান এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে বিমানযোগে পাঠানো হয়। ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। হাদীর হত্যাকাণ্ডের পর সৃষ্ট সহিংসতায় দেশের দুটি প্রধান সংবাদপত্র, দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট ও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়েছে। হাসিনা বলেছেন, এই ধরনের সহিংসতা প্রতিবেশীদের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ককে অস্থিতিশীল করে তোলে।
হাসিনা বলেন, "এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড সেই অরাজকতার প্রতিফলন, যা আমার সরকারকে উৎখাত করেছিল এবং ইউনূসের অধীনে তা বহুগুণে বেড়েছে। হিংসা একটি সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ অন্তর্বর্তী সরকার হয় তা অস্বীকার করছে অথবা তা থামাতে ক্ষমতাহীন। এই ধরনের ঘটনা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তোলে, পাশাপাশি আমাদের প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ককেও ক্ষতিগ্রস্ত করে, যারা স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ভারত এই বিশৃঙ্খলা, সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন এবং আমরা একসঙ্গে যা কিছু গড়ে তুলেছিলাম তার সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাওয়া দেখছে। যখন আপনি আপনার সীমান্তের মধ্যে মৌলিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পারেন না, তখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে আপনার বিশ্বাসযোগ্যতা ভেঙে পড়ে। এটাই ইউনূসের বাংলাদেশের বাস্তবতা।" হাসিনা আরও বলেন, ইউনূস সরকার সাজাপ্রাপ্ত সন্ত্রাসীদের কারাগার থেকে মুক্তি দিয়েছে এবং উগ্রপন্থী সংগঠন জামায়াতে ইসলামীর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তের ইঙ্গিতও দিয়েছে।
তিনি বলেন, "আমি এই উদ্বেগ শেয়ার করছি যেমনটি বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষও করছে। যারা আমরা একসময় যে নিরাপদ, ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র ছিলাম, তা-ই পছন্দ করে। ইউনূস চরমপন্থীদের মন্ত্রিসভার পদে বসিয়েছেন, সাজাপ্রাপ্ত সন্ত্রাসীদের কারাগার থেকে মুক্তি দিয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনের সাথে যুক্ত গোষ্ঠীগুলোকে জনজীবনে ভূমিকা পালনের সুযোগ দিয়েছেন। তিনি রাজনীতিবিদ নন এবং একটি জটিল রাষ্ট্র পরিচালনার কোনো অভিজ্ঞতা তার নেই। আমার আশঙ্কা হল, উগ্রপন্থীরা তাঁকে ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি গ্রহণযোগ্য মুখ তুলে ধরছে। অথচ তারা পদ্ধতিগতভাবে ভেতর থেকে আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে মৌলবাদী করে তুলছে। এটি শুধু ভারত নয়, দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতায় আগ্রহী প্রতিটি জাতির জন্যই উদ্বেগজনক হওয়া উচিত। বাংলাদেশের রাজনীতির ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র আমাদের অন্যতম প্রধান শক্তি ছিল, এবং আমরা কিছু নির্বোধ চরমপন্থীর খেয়ালে এটিকে বলি হতে দিতে পারি না। একবার গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হলে এবং দায়িত্বশীল শাসন ফিরে এলে, এই ধরনের বেপরোয়া কথাবার্তা বন্ধ হবে।"

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন