একশ্রেণির কর্মবিমুখ সরকারি কর্মচারীদের ‘সিধে’ করতে পারবেন মুখ্যমন্ত্রী?

আসি যাই মাইনে পাই! (Attendance and punctuality) আসি যাই মাইনে পাই! রাজ্য সরকারের এক শ্রেণির কর্মীদের নিয়ে এমন কথা বহু বছর ধরেই বলা হয়ে থাকে।…

government employees

আসি যাই মাইনে পাই! (Attendance and punctuality)

আসি যাই মাইনে পাই! রাজ্য সরকারের এক শ্রেণির কর্মীদের নিয়ে এমন কথা বহু বছর ধরেই বলা হয়ে থাকে। দেরি করে অফিসে আসেন, আবার তাড়াতাড়ি বাড়ি চলে যান, এমন অভিযোগ বহুদিন ধরেই রয়েছে ওই সরকারি কর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে। বহুদিন ধরেই বিষয়টি নিয়ে চর্চা চলে আসছে রাজ্য জুড়ে। সদ্য সরকারি জমি-জায়গা দখলদারি ইস্যুতে কড়া অবস্থান নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যে বিষয়টিকে স্বাগত জানাচ্ছে রাজ্যবাসী।

সরকারি দফতরে কর্মসংস্কৃতি ফিরবে? (Government employees)

তাই রাজ্যের মানুষ এবার চান সেই অংশের কর্মবিমুখ সরকারি কর্মীদের একাংশকে কড়া দাওয়াই দিয়ে ‘সিধে’ করে দিন মুখ্যমন্ত্রী। কারণ বহুদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে যে বিভিন্ন কাজ নিয়ে রাজ্য সরকারের অফিসে বারবার যেতে হয় সাধারণ মানুষকে। আসলে এক শ্রেণির কর্মীদের মানসিকতার জন্যেই নাম খারাপ হয় মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রশাসনের। তাই রাজ্য সরকারের প্রত্যেকটি অফিসে কর্মসংস্কৃতি একশো শতাংশ কবে ফিরবে, বা আদৌ ফিরবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গিয়েছে।

বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে হাজিরা (Attendance policies)

এই পরিস্থিতিতে কিছুদিন আগেই কেন্দ্রীয় সরকারের একটি নির্দেশ সামনে এসেছে। তাতে বলা হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের সর্বস্তরের কর্মী ও আধিকারিকদের সকাল ৯.১৫ মিনিটের মধ্যে অফিসে ঢুকতে হবে। এক মিনিট দেরি করলে নেমে আসবে শাস্তির খাঁড়া। নিয়ম অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সকাল ন’টার মধ্যে অফিসে প্রবেশ করতে হয়। এবার ১৫ মিনিট অতিরিক্ত দেওয়া হয়েছে ‘গ্রেস টাইম’ হিসেবে। আর প্রত্যেক কর্মীকে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে হাজিরা নথিভুক্ত করাতে হবে তাঁদের দফতরে।

হাজিরার নয়া নির্দেশিকা (government offices)

নির্দেশিকা অনুযায়ী ওই সময়ের মধ্যে অফিসে প্রবেশ করতে না পারলে তাঁর বরাদ্দ ছুটির মধ্যে থেকে অর্ধদিবস কাটা যাবে। অর্থাৎ দু’দিন দেরি করলেই একটি ছুটির দিন তাঁদের বাদ যাবে। এর পাশাপাশি নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে একটি দফতরে কর্মীরা কখন আসছেন, বা অফিস ছেড়ে কখন বেরিয়ে যাচ্ছেন তা দেখতে হবে সেই অফিসের শীর্ষ আধিকারিকদের। কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মীদের একাংশ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অফিসে আসেন না বলে অভিযোগ। তাই প্রত্যেকটি অফিসে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে হাজিরা চালু করতে চায় কেন্দ্র। তাই এই উদাহরণকে সামনে রেখে বাংলার মানুষ চান পশ্চিমবঙ্গেও এমন কড়া অবস্থান নেওয়া হোক সরকারি কর্মীদের নিয়ে।

কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়ার দাবি (Dearness Allowance for State Employees)

কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়ার দাবিতে বহুদিন ধরে আন্দোলন করছেন সরকারি কর্মীরা। দেখা যাচ্ছে রাজ্যের থেকে কেন্দ্রীয় কর্মীরা ৩৬ শতাংশ বেশি হারে ডিএ বা মহার্ঘ ভাতা পান। রাজ্য সরকারি কর্মীরাও কেন্দ্রীয় হারে ডিএ পান, এটা সকলেই চান। কিন্তু পরিবর্তে প্রত্যেক কর্মচারীকে ১০০ শতাংশ পরিষেবা দিতে হবে সাধারণ মানুষকে, এটাও কিন্তু সমান ভাবে কাম্য। কিন্তু সেটা কী পাওয়া যায়?

পরিষেবা পাবেন সাধারণ মানুষ? (administrative reforms)

কয়েক বছর আগেও এই মহার্ঘ ভাতার ক্ষেত্রে রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে ফারাক এতটা ছিল না। কিন্তু তখনও কী প্রত্যেক সরকারি কর্মী ১০০ শতাংশ পরিষেবা দিতেন সাধারণ মানুষকে? তাই আগামী দিনে যদি রাজ্য ও কেন্দ্রের মহার্ঘ ভাতা সমান হয়ে যায় তখনও কী নিশ্চিত করে বলা যাবে প্রত্যেক সরকারি কর্মীর থেকে একশো শতাংশ পরিষেবা পাবেন সাধারণ মানুষ? আসলে এক শ্রেণির সরকারি কর্মীদের জন্যেই নাম খারাপ হচ্ছে রাজ্য প্রশাসনের। সেই অংশকে হাজার বার সতর্ক করেও কিছুতেই নিয়মের মধ্যে আনা যাচ্ছে না বলে সরকারি অফিসগুলিতে কান পাতলেই শোনা যায়। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী এ ব্যাপারে নতুন করে কড়া অবস্থান নিন। একমাত্র তাতেই ‘সিধে’ হবেন সেই শ্রেণির রাজ্য সরকারি কর্মীরা।

আরও পড়ুন-

উপনির্বাচনে থাকছে বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী

‘‌আমি দায়িত্ব নিয়ে ওদের জেলে ঢোকাব..’‌, কড়া হুঁশিয়ারি পার্থের

‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সৎমা আর অভিষেককে…’

দশ বছরে স্রেফ ‘অ্যাপেটাইজ়ার’! ‘মেন কোর্স’ এখনও বাকি: মোদী

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস! থানায় অভিযোগ দায়ের হতেই

Bengal:  Chief Minister Mamata Banerjee’s tough stance on government employees‘ attendance and punctuality. Will it yield results?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *