অসময়ে কে বাঁচিয়েছিল রতন টাটার কোম্পানিকে? শুনলে ভাববেন এমনটাও সম্ভব

দিল্লি: জানেন একসময় রতন টাটার কোম্পানিকে বাঁচিয়েছিল কে? কোহিনুরের দ্বিগুণ বড় একটি হিরে। চমকে গেলেন? কোহ-ই-নূর হিরের কথা সবাই জানে। তবে, কোহ-ই-নূর হিরের প্রায় দ্বিগুণ…

দিল্লি: জানেন একসময় রতন টাটার কোম্পানিকে বাঁচিয়েছিল কে?

কোহিনুরের দ্বিগুণ বড় একটি হিরে। চমকে গেলেন? কোহ-ই-নূর হিরের কথা সবাই জানে। তবে, কোহ-ই-নূর হিরের প্রায় দ্বিগুণ আয়তনের একটি হিরে ছিল টাটাদের ঘরে। যা একসময় তাদের ডুবতে বসা ব্যবসাকে বাঁচিয়েছিল। হিরেটি ছিল লেডি মেহেরবাই টাটার। ভারতে নারীবাদের অন্যতম আইকন ছিলেন তিনি। কথার চেয়ে বেশি বলত তাঁর কাজ। হরিশ ভাট, তাঁর ‘টাটা স্টোরিজ’ বইয়ে জানিয়েছেন, টাটাদের আর্থিক সংকটের সময় কীভাবে টাটা স্টিলকে বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি। বা বলা ভাল লেডি মেহেরবাই টাটার কাছে থাকা জুবিলি ডায়মন্ড।

জুবিলি হিরের উৎস অবশ্য আমাদের দেশ নয়। উনিশ শতকে, দক্ষিণ আফ্রিকার জাগারফন্টেইন খনিতে পাওয়া গিয়েছিল বিশ্বের এই অন্যতম বৃহৎ প্রাকৃতিক হিরেটি। মেহেরবাই জুবিলি হিরেটিকে একটি প্ল্যাটিনামের চেইনে স্থাপন করেছিলেন। কোনও বড় অনুষ্ঠান হলে, তবেই চেইন-সহ হিরেটি বের করে পরতেন। এটা ছিল টাটা দম্পতির ভালবাসা এবং আশার প্রতীক।

কিন্তু, চরম সংকট এসেছিল ১৯২৪ সালে। সস্তা জাপানি ইস্পাতের সঙ্গে লড়াই করতে করতে বন্ধ হওয়ার মুখে এসে পড়েছিল টাটা স্টিল। কর্মীদের বেতন দেওয়ার উপায় ছিল না। লিকুইড মানির অভাব ছিল। ডিবেঞ্চার পরিশোধের পরিমাণ ছিল ২ কোটি টাকা। সহজ সমাধান ছিল ছাঁটাই। কিন্তু, সংস্থার নাম তো টাটা। কঠিন সময়ে একজনও কর্মচারীকে ছাঁটাই করেনি তাঁরা। বদলে, টাটা কোম্পানিকে বাঁচাতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন লেডি মেহেরবাই এবং স্যার দোরাবজি। কাজে লাগে জুবিলি ডায়মন্ড। জুবিলি হিরে-সহ বেশ কিছু গয়না বন্ধক রেখে ১ কোটি টাকার ঋণ নিয়েছিলেন তাঁরা। আর বাকিটা ইতিহাস। তাঁদের সেই ত্যাগের জন্য শীঘ্রই মুনাফা অর্জন করতে শুরু করে টাটা স্টিল। অবশেষে দেশের বৃহত্তম এবং সবথেকে প্রভাবশালী সংস্থাগুলির অন্যতম হয়ে উঠেছিল টাটা।

এরকম ইন্টারেস্টিং এবং গুরুত্বপূর্ণ সব খবর পেতে ফলো করুন আমাদের পেজ আজ বিকেল। আর বাংলায় এই প্রথম শেয়ার মার্কেটে রিস্ক ম্যানজমেন্ট এবং শেয়ার মার্কেট সাইকোলজি শিখতে হলে ফোন করুন ৯০৯৩২১১২১১ এই নম্বরে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *