পাঁচ রাজ্যের ফল দেখেই আসন রফা চায় কংগ্রেস, চাপ বাড়াবে আঞ্চলিক দলগুলির উপর?

পাঁচ রাজ্যের ফল দেখেই আসন রফা চায় কংগ্রেস, চাপ বাড়াবে আঞ্চলিক দলগুলির উপর?

নিজস্ব প্রতিনিধি:  লোকসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে ততই কংগ্রেস সম্পর্কে বিভিন্ন আঞ্চলিক দলের ক্ষোভ বাড়ছে। এখনও পর্যন্ত আসন রফা নিয়ে বৈঠকে বসতে পারল না কেউ। কারণ একটাই, কংগ্রেস এখনই আসন রফায় আগ্রহী নয়। পাঁচ রাজ্যের ফলাফল দেখে তবেই তারা সেই বৈঠকে বসবে। উদ্দেশ্য একটাই, আঞ্চলিক দলগুলির উপর চাপ বাড়ানো। কোনও অবস্থাতেই বিভিন্ন আঞ্চলিক দলকে কংগ্রেস বেশি আসন ছাড়তে রাজি নয়, সেই মনোভাব এখন থেকেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে তাদের।

লোকসভা নির্বাচন কার্যত দরজায় কড়া নাড়ছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিকরা আসন রফা নিয়ে বৈঠকে বসতে পারেনি। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বহু আগেই বলেছিলেন অক্টোবরের মধ্যেই আসন রফা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যেন হয়ে যায়। কিন্তু নভেম্বর মাস পড়ে গেলেও আসন রফা নিয়ে এখনই যে বৈঠক হচ্ছে না তা বলাই যায়। কারণ একটাই, জাতীয় রাজনীতির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস পাঁচ রাজ্যের ভোটের ফল প্রকাশের আগে কিছুতেই আসন রফা নিয়ে বৈঠকে বসবে না। ৩ ডিসেম্বর মিজোরাম, ছত্তিশগড়, রাজস্থান মধ্যপ্রদেশ এবং তেলেঙ্গানা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হবে। সেখানে ফলাফল কংগ্রেসের পক্ষে ভাল হলে আসন রফা নিয়ে তারা অনেক বেশি দর কষাকষি করতে পারবে অন্যান্য দলগুলির সঙ্গে। শুধুমাত্র এই কারণেই বিষয়টি নিয়ে ইচ্ছাকৃত ভাবে দেরি করছে কংগ্রেস। অর্থাৎ এ বিষয়ে কংগ্রেস ধীরে চলো নীতি নিয়েছে বলে এখনই আসন রফা নিয়ে বৈঠক হচ্ছে না।

ঘটনা হল পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনে কংগ্রেস মিজোরামে এনডিএ শরিক-সহ বাকিগুলিতে বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি লড়ছে। কিন্তু ছত্তিশগড়, রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশ, এই তিনটি রাজ্যেই প্রচুর আসনে প্রার্থী দিয়েছে আম আদমি পার্টি। একই ভাবে মধ্যপ্রদেশে বেশ কিছু আসনে প্রার্থী দিয়েছে সমাজবাদী পার্টি। শুধুমাত্র মধ্যপ্রদেশেই প্রায় নব্বইটি আসনে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে প্রার্থী রয়েছে ‘ইন্ডিয়া’ জোট শরিক দলের। গত বিধানসভা নির্বাচনে মধ্যপ্রদেশে প্রায় দশটি কেন্দ্রে অত্যন্ত কম ভোটের ব্যবধানে হেরে গিয়েছিল কংগ্রেস। তাই এবারেও সমাজবাদী পার্টি ও আম আদমি পার্টি সেখানে প্রার্থী দেওয়ায় ক্ষুব্ধ কংগ্রেস। একই কথা প্রযোজ্য রাজস্থান এবং ছত্তিশগড়ের ক্ষেত্রেও। তা সত্ত্বেও কংগ্রেসের আশা লোকসভা নির্বাচনের আগে এই বিধানসভা নির্বাচন, অর্থাৎ সেমিফাইনালে তারা অভূতপূর্ব  ফল করবে। আর যদি সেটাই হয় তাহলে আসন রফা নিয়ে বৈঠকের সময় কংগ্রেসের যে অনেক বেশি দাবি থাকবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সেক্ষেত্রে পাঞ্জাব, দিল্লি এবং হরিয়ানা, যেখানে আম আদমি পার্টি অত্যন্ত শক্তিশালী সেখানেও আসন রফা নিয়ে কংগ্রেস জোরালো দাবি জানাবে।

এই আবহের মধ্যে মঙ্গলবার থেকেই পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন পর্ব শুরু হয়ে গিয়েছে। কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা রিপোর্ট বলছে মিজোরাম বাদে বাকি চারটি রাজ্যে তাদের বেশ ভাল ফল হবে। রাজস্থানে যদি কংগ্রেস ক্ষমতাও হারায় তাহলেও বিজেপির সঙ্গে তাদের আসন সংখ্যার ফারাক খুব বেশি থাকবে না বলে হাত শিবির মনে করে। অর্থাৎ কড়া টক্কর চলছে কংগ্রেস-বিজেপির মধ্যে, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বলাবাহুল্য এই ‘সেমিফাইনাল’ ম্যাচে খারাপ ফল হলে বিজেপি বেশ বিপদে পড়ে যাবে। তখন লোকসভা নির্বাচনের আগে আরও বেশি সংঘবদ্ধ হবে বিরোধীদের ‘ইন্ডিয়া’ জোট। তাই  এই নির্বাচনে ভাল ফল করতে বিজেপিও মরিয়া। এই অবস্থায় দেশের বিজেপি বিরোধী ভোটাররা চাইছেন অবিলম্বে  ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিকরা নিজেদের মধ্যে আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত করে নিক। তবে ডিসেম্বরের আগে সেই সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। কারণ তাতে কংগ্রেস একেবারেই আগ্রহী নয়। যে কারণে কংগ্রেসের উপর পাল্টা চাপ বাড়াতে চাইছে আঞ্চলিক দলগুলি। এভাবেই কেটে যাবে আরও একমাস। এই পরিস্থিতিতে ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের আগে আসন রফা নিয়ে কোনও ছবিই যে সামনে আসবে না তা বলাই যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *