ইলেকট্রিক শক খাওয়ার পরই এটা করুন! প্রাণ বাঁচবে

কলকাতা: ইলেকট্রিক শক খাওয়ার পরই যে ইম্পরট্যান্ট কাজটা করা জরুরি।সেটা জানুন।ঠিক সময়ে প্রপার ব্যবস্থাটা না নিলে কিন্তু আক্রান্তের প্রাণ যেতে পারে।ইলেকট্রিক নিয়ে মোটেই ছেলেখেলা নয়।কী…

কলকাতা: ইলেকট্রিক শক খাওয়ার পরই যে ইম্পরট্যান্ট কাজটা করা জরুরি।সেটা জানুন।ঠিক সময়ে প্রপার ব্যবস্থাটা না নিলে কিন্তু আক্রান্তের প্রাণ যেতে পারে।ইলেকট্রিক নিয়ে মোটেই ছেলেখেলা নয়।কী করবেন আর কী নয়?হার্টের সমস্যায় বড় রিস্ক হতে পারে কিন্তু।

প্রথমে জানা দরকার বিদ্যুতের শক থেকে কী কী সমস্যা আসতে পারে। বার্ন মানে পুড়ে যাওয়া, হার্টের সমস্যা এমনকি নার্ভের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অতএব বুঝতে পারছেন বিষয়টাকে কিন্তু হালকাভাবে নেওয়া যাবেনা। তাই এই নিয়ে সাবধানতা জরুরি। নইলে রোগীর জীবন নিয়ে টানাটানি হতে পারে।

মনে রাখবেন, কাউকে ইলেকট্রিক শক খেতে দেখলে প্রথমেই বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করুন। কারেন্ট বন্ধ না করে তাঁকে ছুঁতে যাবেন না। এতে আপনিও কারেন্ট খাবেন। এরপর আক্রান্তের শারীরিক পরিস্থিতি দেখুন। তিনি সুস্থ সবল থাকলে চোখে-মুখে জল দিয়ে বিশ্রাম নিতে বলুন। আর যদি তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন, তাহলে সোজা হাসপাতালের আপৎকালীন বিভাগে যান।

পুড়ে গেলে কি করতে হবে সেটা পরে বলব। কিন্তু বেসিক্যালি শক খেলেই গা ঝিমঝিম করে, তাই সেটা আগে জানাবো যে এক্ষেত্রে কি করবেন। কারেন্টের শক খাওয়ার পর অনেকেরই গা-হাত-পা ঝিমঝিম করে। ওই সময় আপনাকে রেস্ট নিতে হবে। সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণে জলপান করুন। এই কাজটুকু করে ফেলতে পারলেই দ্রুত চাঙ্গা হয়ে উঠবেন। তবে অনেক সময় বিশ্রাম নেওয়ার পরও শারীরিক অস্বস্তি যায় না। এই ধরনের পরিস্থিতিতে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। অযথা দেরি করলে কিন্তু সমস্যা বাড়তে পারে।

আর শক লেগে যদি দেহের কোনো অংশ পুড়ে যায় তাহলে প্রথমেই জায়গাটা খুব ভালো করে স্বচ্ছ জীবাণুমুক্ত দল দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। তারপর সেখানে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল কোনও মলম লাগান। আর সোজা চিকিৎসকের কাছে যান। এতেই সমস্যার নিষ্পত্তি সম্ভব।

আরেকটা জিনিস মাথায় রাখবেন। ইলেকট্রিক শক থেকে হার্ট ভীষণরকম ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। এক্ষেত্রে হৃদগতির ছন্দপতন হওয়াও সম্ভব। এমনকী রোগী অজ্ঞান ও হয়ে যেতে পারেন। হৃদস্পন্দন থেমে যেতে পারে।মনে রাখবেন, হৃদগতি বেড়ে গেলে শীঘ্রই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। আর ইলেকট্রিক শক খেয়ে রোগীর হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে গেলে তাঁকে তৎক্ষণাৎ সিপিআর দেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। এক্ষেত্রে বুকের মাঝ বরাবর চাপ দেওয়ার পর আক্রান্তের মুখে মুখ লাগিয়ে ফুঁ দিতে হয়। এভাবেই প্রাণ বাঁচতে পারে। আর যাঁদের পেসমেকার আছে তাঁদেরও ইলেকট্রিক শক লাগার পর গুরুতর সমস্যা হতে পারে। এক্ষেত্রেও দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ মাস্ট।

হতে পারে নার্ভের ক্ষতিও। কোনও কারণে কেউ যদি নিয়মিত ইলেকট্রিক শক খান, তাহলে স্নায়ুর ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষত, ইলেকট্রিকের কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা এই ধরনের সমস্যায় পড়েন। কারণ তাঁরা মাঝেমাঝেই ইলেকট্রিক শক খান। আর মুশকিল হল ইলেকট্রিক শক খাওয়ার জন্য নার্ভের সমস্যা হলে তার কোনও চিকিৎসাই নেই। তাই এক্ষেত্রে সচেতনতাই প্রধান হাতিয়ার। যতটা সম্ভব ইলেকট্রিক শক খাওয়ার প্রবণতা কমাতে হবে। অবশ্যই সতর্ক হয়ে কাজ করা প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *