আগরতলা : ত্রিপুরায় এলেন ১৯ জন নির্বাচনী হিসাব সংক্রান্ত পর্যবেক্ষক। বুধবার থেকে পর্যবেক্ষকরা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন এলাকায় তাদের কাজ শুরু করে দিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশন থেকে পাঠানো নির্বাচনী হিসাব সংক্রান্ত বিষয়ে নিযুক্ত পর্যবেক্ষকরা একযোগে তিন থেকে চারটি বিধানসভা কেন্দ্রের হিসাব-নিকাশ খতিয়ে দেখবেন। সে অনুযায়ী বুধবার দুপুরের মধ্যে তাঁরা তাঁদের দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্ষেত্রগুলিতে পৌঁছে গেছেন।
রাজ্য নির্বাচন দফতর সূত্রে জানা গেছে, তাঁরা রাজনৈতিক দলগুলির ব্যয়ের তথ্য সংগ্রহ করবেন। একই সঙ্গে পূর্বের নির্বাচনগুলির মতো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব-নিকাশও খতিয়ে দেখবেন। প্রত্যেকটি বিধানসভার কেন্দ্রে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং তাদের প্রার্থীদের ব্যয়ের উপর তাঁরা তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখবেন।
এদিকে নির্বাচনী দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট বিষয় খতিয়ে দেখার জন্য আরও কয়েকজন আধিকারিক রাজ্যে আসতে পারেন। নির্বাচনী ব্যয় নিয়ে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের তরফে অভিযোগ জমা পড়েছে। এই অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখার কাজও করবেন এই পর্যবেক্ষকরা।
নির্বাচনী আধিকারিক আরও জানিয়েছেন, দু-এক দিনের মধ্যে বেশ কয়েকজন পুলিশ অবজারভারও রাজ্যে আসবেন। তাঁরা মূলত পুলিশি কার্যকলাপের উপর নজর রাখবেন। তবে আরও কিছুদিন পর আসবেন নির্বাচনী পর্যবেক্ষকরা।
গত বিধানসভা নির্বাচনে এক আসনের জন্য একটি করে সার্ভাইলেন্স টিম ছিল। এবার প্রত্যেকটি বিধানসভা কেন্দ্রে তিনটি করে টিম থাকবে। প্রত্যেক টিমে থাকবেন একজন পুলিশ অফিসার। একজন আইটি ইঞ্জিনিয়ার, একজন করে এক্সাইজ অ্যান্ড ডিউটিজ-এর অফিসার এবং একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট। ফ্লাইং স্কোয়াড রাস্তায় লরি থামিয়ে তল্লাশি করবে। গাঁজা-সহ বিভিন্ন নেশাসামগ্রী, নগদ অর্থ, অস্ত্র কিংবা গোলাবারুদ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখবে এক কমিটি।
প্রয়োজনে ঘটনাস্থলেই যাতে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা যায় তার জন্য একজন ম্যাজিস্ট্রেট সবসময়ের জন্য টিমে থাকবেন। নির্বাচন দফতরের অনুমতি ছাড়া কোনও লরিতে প্রচার চালানো যাবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট লরিকে বৈধ অনুমতি নিতে হবে এবং যদি সেই গাড়িতে কোনও ভিডিও প্রদর্শন করা হয় তবে এই ভিডিওর একটা কপি নির্বাচন দফতরে জমা করতে হবে।
সিডি খতিয়ে দেখে যদি কমিটি অনুমতি না দেয় তবে এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দল মুখ্যনির্বাচন আধিকারিকের কাছে আবেদন করতে পারবে। সেই কমিটিও অনুমতি না দিলে তা প্রদর্শন করা যাবে না।
সূত্রটি আরও জানিয়েছেন, ভোটের কাজে আরও ৫০ কোম্পানি সিআরপিএফ জওয়ান রাজ্যে এসে পৌঁছেছে। সব মিলিয়ে ৭৫ কোম্পানি সিআরপিএফ জওয়ান রাজ্যে এসে পৌঁছলো। ইতিমধ্যে তারা রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে গেছেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন