অ্যালার্মের শব্দে ঘুম ভাঙছে রোজ? অজান্তেই ক্ষতি হচ্ছে না তো শরীরের?

অ্যালার্মের শব্দে ঘুম ভাঙছে রোজ? অজান্তেই ক্ষতি হচ্ছে না তো শরীরের?

কলকাতা:  দিনভর ক্লান্তির পর বিছানায় শুলেই গভীর নিদ্রায় বুজে আসে চোখ৷ মন চায় দীর্ঘক্ষণ ঘুমিয়ে থাকতে৷ কিন্তু উপায় কই! মাথায় ঘুরতে থাকে পরের দিন আবার সকাল সকাল ওঠার চিন্তা৷ ঠিক মতো যদি ঘুম না ভাঙে! তাহলেই তো ভেস্তে যাবে সব কাজ৷ অগত্যা ভরসা অ্যালার্ম৷

আরও পড়ুন- জ্বর কমার পর হঠাৎ কমছে প্লেটলেট! ডেঙ্গির নতুন ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

ঘুম ভাঙাতে অ্যালার্মের মতো কার্যকরী আর কীই বা আছে? অ্যালার্মের শব্দে আমাদের সঠিক সময়ে ঘুম ভেঙে যায়৷  ফলে দৈনন্দিন কাজেও আর ব্যঘাত ঘটে না৷ এই অ্যালার্মের যেমন গুণ রয়েছে, তেমন বেশ কিছু সমস্যাও রয়েছে৷ সম্প্রতি বেশকিছু সমীক্ষায় উঠে এসেছে অ্যালার্মের ক্ষতিকারক দিকগুলি৷ ফোন বা ঘড়ির অ্যালার্মের শব্দে ঘুম ভাঙছে রোজ?‌ এর থেকেই দেখা দিতে পারে বেশকিছু স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যালার্মের শব্দে আচমকা ঘুম ভাঙার ফলে শরীরের সাধারণ ছন্দে বাধা পড়ে। যা থেকে হৃদরোগ, মস্তিস্ক বা কানের সমস্যা দেখা দিতে পারে৷ 

সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় অ্যালার্ম ও স্বাস্থ্যের সম্পর্কের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে৷ বিজ্ঞানীদের দাবি, অ্যালার্মের শব্দে ঘুম ভাঙার ফলে হৃদরোগের আশঙ্কা অনেকটাই বেড়ে যায়। কারণ হঠাৎ কোনও শব্দে আচমকা গভীর ঘুম ভাঙলে শরীরে আপৎকালীন হরমোন আড্রিনালিনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। আর অ্যাড্রিনালিনের ক্ষরণ বাড়লে রক্তচাপও বৃদ্ধি পায়৷ এর ফলে হৃদযন্ত্রের উপর চাপ বাড়ে৷ 

গবেষকরা আরও বলছেন, অ্যালার্মের শব্দ কানে আসার সঙ্গে সঙ্গে তা স্নায়ুর মাধ্যমে মাথায় বার্তা পৌঁছে দেয়। সেই বার্তা পেয়েই আমাদের ঘুম ভেঙে যায়। দীর্ঘসময় ধরে এভাবে আচমকা শব্দে ঘুম ভাঙার অভ্যাস তৈরি হলে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কমতে থাকে। 
 

এছাড়াও অ্যালার্মের আরও কিছু অপকারিতা রয়েছে৷ যেমন হঠাৎ করে অ্যালার্মের শব্দে ঘুম ভাঙলে হজমের গন্ডোগোল দেখা দিতে পারে৷  এর থেকে অ্যাসিডিটি সংক্রান্ত সমস্যা বাড়ে। 

তাছাড়া অ্যালার্মের শব্দ পরিপূর্ণ ঘুমের আগেই আমাদের ঘুম ভাঙিয়ে দেয়৷ ফলে ঘুমের স্বাভাবিক চাহিদা পূরণ হয় না৷ ডায়াবেটিস বা মধুমেয় রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে ঘুমের স্বাভাবিক চাহিদা পূরণ হওয়া আবশ্যক। দীর্ঘদিন ধরে অ্যালার্মের শব্দে ঘুম ভাঙার অভ্যাস তৈরি হলে ডায়াবেটিসজনিত সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। 

দীর্ঘদিন ধরে একই একই সময় বাঁধাধরা গতিতে ঘুম থেকে উঠতে হলে একঘেয়েমি তৈরি হয়।‌ এর ফলে মনের উপর চাপ পড়ে। ঘিরে ধরে অবসাদ৷ 
আমেরিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, হঠাৎ শব্দে গভীর ঘুম ভাঙার কারণে মানুষের স্মৃতিশক্তি ও গণনাশক্তি ক্ষতিগ্ৰস্ত হচ্ছে।