বর্ধমান : পান বিড়ির গুমটি দোকানের আড়ালে অবাধে মদ বিক্রি। খরিদ্দারকেই পুলিশ মনে করে বসে গা ঢাকা দিতে গিয়ে যুবককে ধাক্কা মদ বিক্রেতার। সেচখালে পড়ে মৃত্যু হল যুবকের। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার আঝাপুর এলাকায়। মৃতের নাম রাজু সাউ(২৪)।
ঘটনায় জানা গেছে, সেচ খালের ধারে থাকা দোকানের মালিক শুভেন্দু বিশ্বাস । দোকান ছেড়ে দ্রুত পালানোর সময় খরিদ্দার যুবককেই সজোরে ধাক্কা দিয়ে বসে দোকান মালিক । ধাক্কায় বেশামাল হয়ে দুজনেই গিয়ে পড়েন গুমটি লাগোয়া গভীর সেচ খালের জলে । দোকান মালিক শুভেন্দু সাঁতরে ডাঙায় উঠে পালাতে সক্ষম হলেও তলিয়ে যায় খরিদ্দার যুবক রাজু সাউ। মঙ্গলবার বার গভীর রাত পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়েও আর রাজু কে উদ্ধার করা সম্ভব হয় নি । বুধবার সকালে অসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তরের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌছে খালের জল থেকে যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করে । ঘটনার জেরে আঝাপুর এলাকায় তুমুল চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে । যুবকের অকাল মৃত্যুর জন্য দোকান মালিককেই দায়ী করে কাকে গ্রেফতারের দাবিতে সরব হয়েছে স্থানীয়রা।
পুলিশ সূত্রে জানাগেছে মৃত যুবক বর্ধমান শহরের বীরহাটা এলাকার বাসিন্দা । সেখানে তাদের চা বিক্রির দোকান আছে । বাবা ও ছেলে মিলে চায়ের দোকান চালাতেন । মঙ্গলবার সন্ধ্যা নাগাদ স্করপিও গাড়িতে চড়ে বাবা সেনুয়া সাউ ও ছেলে রাজু মেমারির চাঁচাই থেকে বাড়ি ফিরছিলেন । আঝাপুরে তারা গাড়ি দাঁড় করান । এখানেই সেচখালের ধারে থাকা গুমটি দোকনে কিছু কিনতে যায় রাজু । দেরি হচ্ছে দেখে যুবকের বাবা ওই গুমটি দোকানের দিকে হেঁটে এগিয়ে যান। দোকান মালিক শুভেন্দু বিশ্বাস এই সময় কোন কারনে দোকান ছেড়ে পালাতে উদ্যত হন । পালানোর সময় দোকান মালিক ধাক্কা দিয়ে বসে রাজু সাউ কে । ধাক্কায় বেসামাল হয়ে দুজনেই গিয়ে পড়ে দোকান লাগোয়া গভীর খালের জলে । তলিয়ে যায় রাজু । দোকান মালিক সাঁতরে খাল পেরিয়ে পালায় । খবর পেয়েই জামালপুর ব্লকের বিডিও সুব্রত মল্লিক , বিপর্যয় ব্যবস্থাপন আধিকারিক ফাল্গুনি মুখোপাধ্যায় এবং মেমারি ও জামালপুর দুই থানার পুলিশ কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌছায় । খালের লক গেট আটকে দেওয়া হয় । স্থানীয়রা গভীর রাত পর্যন্ত গভীর জলে রাজুর খোজ চালান । কিন্তু তার হদিশ উদ্ধার করা যায়নি । জামালপুর থানার পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন বুধবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে আনুমানিক ১০০ মিটার দূরে খালের জলথেকে রাজু সাউ এর মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে । এদিনই যুবকের মৃতদেহ বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়না তদন্তের জন্য পাঠান হয় । দোকান মালিক পলাতক বলে পুলিশ জানিয়েছে ।
মৃত যুবকের বাবা সেনুয়া সাউ জানিয়েছেন , মেমারির চাঁচাইয়ে তার মেয়ের বাড়ি । মঙ্গলবার তিনি ও তার ছেলে রাজু চাঁচাই গিয়েছিলেন । সন্ধ্যার আগে বর্ধমানের বাড়িতে ফেরার জন্য স্করপিও গাড়ি চড়ে তিনি ও ছেলে রওনা হন । আঝাপুরে গাড়ি দাঁড় করান হলে সেচখালের ধারে থাকা গুমটি দোকানে থেকে রাজু হাজমোলা কিনতে যায় । দোকান মালিককে ১০০ টাকা দেয় রাজু । দেরি হচ্ছে দেখে তিনি ওই গুমটি দোকানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন । সেনুয়া সাউ বলেন দোকান মালিক মনেকরে আমরা পুলিশের লোক
খরিদ্দার সেজে তাকে ধরতে এসেছি। রাজুকে টাকা পয়সা ফেরত না দিয়েই দোকান মালিক দোকান ছেড়ে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করে । পালানোর সময় রাজুকে দোকান মালিক ধাক্কা দিয়ে বসে । তাতেই বেসামাল হয়ে দোকান মালিক ও রাজু গভীর খালের জলে পড়ে যায় । দোকান মালিক সাঁতরে পালিয়ে গেলেও গভির খালের জলে তলিয়ে যায় রজু । গভীর রাত পর্যন্ত খোঁজ চালিয়েও আর রাজুর হদিশ মেলেনি । বুধবার সকালে খালের জল থেকে রাজুর মৃতদেহ উদ্ধার হয় বলে বাবা সেনুয়া সাউ জানিয়েছেন ।
আঝাপুর এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন , গুমটিতে পান ও বিড়ি , সিগারেট বিক্রির সাথে সাথে শুভেন্দু বিশ্বাস সেখানে মদ বিক্রী করতো । শুভেন্দু ভেবে বসে রাজু ও তার বাবা পুলিশের লোক । সে গুমটিতে বসে মদ বিক্রী করে জেনে স্করপিও গাড়ি চড়ে তাকে ধরতে এসেছে । শুভেন্দু দোকানা ছেড়ে দ্রুত পালানোর সময় রাজুকে ধাক্কা দিয়ে বসে । তার জেরেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেগেল । অকাল মৃত্যু হল এক যুবকের । গুমটি দোকান মালিকে গ্রেফতারের দাবি তুলেছেন আঝাপুর এলাকার বাসিন্দারা । জামালপুর থানার পুলিশ যদিও এবিষয়ে মুখ
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন