পাথারকান্দি : প্রথমবারের মতো লোয়াইরপোয়া এলাকার সলগই শিবমন্দির লাগোয়া আসাইঘাট গ্রামে পাঁচ দিবসীয় সনাতন সম্মেলন-সহ সঙ্গীতময় শ্রীমদভাগবত কথা ও বিশ্বশান্তি মহাযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় বিশ্বশান্তি মহাযজ্ঞ পরিচালন কমিটি আয়োজিত মূল অনুষ্ঠান ২৪ জানুয়ারি শুরু হয়। শেষ হয়েছে গতকাল ২৮ জানুয়ারি।
ধর্মীয় অনুষ্ঠানটি সুচারুরুপে পালন করতে ব্যাপক আয়োজন করেছিলেন আয়োজক মণ্ডলির কর্মকর্তারা। মনোরম দৃশ্যে সাজানো হয়েছিল সুবিশাল অস্থায়ী মণ্ডপ। যজ্ঞের মহাকুণ্ডও দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে। পূর্বপ্রস্তুতি অনুযায়ী দূরদূরান্ত থেকে সনাতন ধর্মীয় সঙ্গমে অংসগ্রহণ করেছিলেন এক ঝাঁক সাধুসন্ত। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন করিমগঞ্জে ভারত সেবাশ্রম সংঘের স্বামী মৃন্ময়ানন্দজি মহারাজ। ভাগবতকথা তথা ভজনশিল্পী হিসেবে উত্তরাখণ্ডের রুদ্রপুর থেকে এসেছিলেন গীতাশাস্ত্রী মানিক শুক্লবৈদ্য। যজ্ঞ পুরোহিত হিসেবে শ্রীবৃন্দাবনধাম থেকে আসেন আচার্য বিবেককৃষ্ণ শাস্ত্রী-সহ অন্যরা। এ ছাড়া মহাযজ্ঞে পদার্পণ করেন আরও এক ঝাঁক স্বনামধন্য পণ্ডিতমণ্ডলি ও গুণীজন।
এ ব্যাপারে আয়োজক কমিটির পক্ষে বিশ্বজিৎ বৈদ্য জানান, কালক্রমে নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে সনাতন ধর্মের ব্যাপক প্রচার ও প্রসার ঘটছে না। বিপথগামী হচ্ছে হিন্দু সমাজের যুবপ্রজন্ম। এ সবের কিছুটা হলেও লাগম ধরার প্রচেষ্টায় এই ক্ষুদ্র আয়োজন করা হয়। মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানডালিতে ছিল ২৪ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে দুপুর সাড়ে বারোটা পর্যন্ত গঙ্গাযাত্রা, মঙ্গলঘট স্থাপন, বিষ্ণুপূজা, শ্রীমদভাগবত পূজা, সভাপতির আসন গ্রহণ, অতিথি বরণ, স্বামী বিবেকানন্দের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, স্বাগত সঙ্গীত, স্বস্তিপাঠ, স্বস্তিবচন। প্রবচকের ভূমিকায় মূল আসন গ্রহণ করেন ভারত সেবাশ্রম সংঘের শ্রীমৎ স্বামী মৃন্ময়ানন্দজি মহারাজ।
২৫ জানুয়ারির নির্ঘণ্টের ডালিতে ছিল শ্রীমদভাগবতকথা-সহ দুপুর দেড়টা থেকে ধর্মসভায় প্রশ্নোত্তর পর্ব ও শাস্ত্রীয় আলোচনা। ২৬ জানুয়ারির মাঙ্গলিক পর্বে ছিল জাতীয় পতাকা উত্তোলন, পড়ুয়াদের মধ্যে বসে আঁকো প্রতিযোগিতা, দেশাত্মবোধক সঙ্গীত পরিবেশন ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান। ২৭ জানুয়ারির মাঙ্গলিক পর্বের ডালিতে ছিল দুপুর দেড়টা থেকে ছয়টা পর্যন্ত শ্রীমদভাগবত পাঠ ও প্রশ্নোত্তর পর্ব। ২৮ জানুয়ারি রবিবার সকাল ছয়টা থেকে বিশ্বশান্তি মহাযজ্ঞের পূর্ণাহুতির শুভারম্ভ-সহ সংকীর্তন নিয়ে শোভাযাত্রা সঙ্গম ও চৌদ্দমাদল শ্রীনামসংকীর্তন শেষে দুপুর একটা থেকে মহাপ্রসাদ বিতরণ পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এলাকার প্রায় ১৫ হাজার হিন্দু ধর্মপ্রাণ ভক্তদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। উল্লেখ্য, এই যজ্ঞানুষ্ঠানে সরাসরি অগ্নিসংযোগ ছাড়াই বৈদিক আচরণ নিয়ম-কানুন ও শাস্ত্রীয় পৌরাণিক
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন