শিলচর : মুখ্যমন্ত্ৰী সৰ্বানন্দ সনোয়ালের নিৰ্দেশ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টা পার হয়নি। এরই মধ্যে ফের গতকাল রাতে কয়লা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কাছাড় জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের অভিযানে অভারলোড ও জরিমানা বাবদ ৪০ লক্ষ ৩৩ হাজার টাকা সংগ্রহ জমা পড়েছে রাজকোষে।
শিলচর-গুয়াহাটি ৬ নম্বর জাতীয় সড়কে অসম-মেঘালয় আন্তঃরাজ্য সীমান্তবর্তী কাছাড় জেলার গুমড়া পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় চালানবিহীন এবং অভারলোড কয়লাবাহী ট্ৰাক বাজেয়াপ্ত করে এই সাফল্য লাভ করেছে কাছাড় জেলা প্রশাসন। এই অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন খোদ জেলাশাসক এ, লক্ষণন, পুলিশ সুপার রাকেশ রৌশন। প্ৰশাসনের এই সাফল্যের পর আজ রাজ্য বিধানসভার উপাধ্যক্ষ দিলীপকুমার পাল শিলচরে সাংবাদিকদের জানান, মুখ্যমন্ত্ৰীর নিৰ্দেশে জাতীয় সড়কে অভিযান চালিয়ে ২১৮টি ট্ৰাক বাজেয়াপ্ত করে জানান দেওয়া হয়েছে যে, এই সরকার দুৰ্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে, ভ্রষ্টাচারী কারোর রেহাই নেই।
উপাধ্যক্ষ জিলীপ পাল বলেন, প্ৰধানমন্ত্ৰী এবং মুখ্যমন্ত্ৰী দুৰ্নীতি বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করায় দেশ প্ৰগতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। আগামী দিনে একটি মজবুত অসম গড়ে তুলতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনসাধারণকেও সজাগ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বলেছেন, আগে যে সব কাণ্ড ঘটেছে তা আর সংঘটিত দেওয়া হবে না। বেজিপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার দুর্নীতির সঙ্গে কখনও আপস করবে না। যে সব ব্যক্তি কয়লা সিন্ডেকেটের সঙ্গে জড়িত তাদের রেয়াত নয়। তাই এই সব কয়লা সিন্ডিকেটবাজদের এখনই সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন দিলীপ পাল।
এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, গুমড়া এলাকায় কোনও চেকগেট না থাকার সুযোগ নিয়ে একাংশ কয়লা ব্যবসায়ী স্থানীয় কতিপয় নেতাকে নিয়ে এক সিন্ডিকেটরাজ কায়েম করেছিল। প্রত্যেক দিন বিনা চালানে এবং অভারলোড কয়লা পাচার করা হচ্ছিল। এই কয়লার বেশিরভাগই বাংলাদেশে পাচার করছিল কয়লা মাফিয়ারা। গত ২২ জানুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল শিলচর সফরে এলে এ সম্পর্কে তাঁকে অবগত করা হয়েছিল। এখানেই তিনি কয়লা মাফিয়াদের বিরুদ্ধে কড় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে যান জেলা প্রশাসনকে। এর পর প্রথম দিন অভিযান চালিয়ে ৪ লক্ষ জরামানা আদায় করেছে জেলা প্রশাসন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন