আগরতলা : ত্রিপুরা নির্বাচনে মমতা-রাহুল আবার এক মঞ্চে আসার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এখনও এ ব্যাপারে কিছুই চূড়ান্ত না হলেও উসকে দিচ্ছে নয়া জল্পনা। তবে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কংগ্রেসের তরফে ইতিবাচক মনোভাব দেখানো হচ্ছে। অন্যদিকে ত্রিপুরায় দুর্বল তৃণমূল কংগ্রেসও এ বিষয়ে সক্রিয় হয়েছে।
বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, শিলঙে বুধবার দুপুরে কংগ্রেসের উচ্চস্তরে বৈঠক হচ্ছে। মেঘালয়ের পাশাপাশি ত্রিপুরার বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে আয়োজিত এই বৈঠকে পৌরোহিত্য করছেন সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির প্রতিনিধি সিপি জোশি। বৈঠকে ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বীরজিৎ সিনহা-সহ আরও বেশ কয়েকজন নেতা উপস্থিত রয়েছেন।
প্রদেশ কংগ্রেস সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দিল্লিতে একই ইস্যুতে পুনরায় রাহুল গান্ধীর উপস্থিতিতে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ত্রিপুরায় প্রদেশ কংগ্রেস একটি তৃতীয় ফ্রন্ট গঠন করতে চাইছে। সিপিআইএম এবং বিজেপিকে বাদ দিয়ে এই ফ্রন্টে অন্যান্য ছোট দলগুলিকে শামিল করার বিষয়ে ইতিমধ্যে চর্চা শুরু হয়েছে। বুধবারের গুয়াহাটি বৈঠক এবং বৃহস্পতিবার দিল্লির বৈঠকে জোট এবং প্রার্থী তালিকা সবই চূড়ান্ত হয়ে যাবে।
প্রদেশ কংগ্রেসের সূত্রটি আরও জানিয়েছে, ত্রিপুরায় তৃণমূল কংগ্রেসকে সঙ্গে নিয়ে সমতলে ভোটের লড়াই শুরু করতে চাইছে এআইসিসি। উভয় দলের রাজ্য নেতৃত্ব এ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। তবে কংগ্রেস এক্ষেত্রে জোটের জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের সামনে একটি শর্ত রেখেছে। এই শর্তে বলে হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ত্রিপুরায় এসে প্রচার করতে হবে। অন্যথায় জোট হবে না। একই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাহুল গান্ধীকে এক মঞ্চে রেখে আগরতলা, উদয়পুর এবং কৈলাসহরে তিনটি জনসভায় ভাষণ দেওয়ার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
প্রদেশ তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এখনও তেমন কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে তৃণমূলের রাজ্য নেতারা কলকাতায় এ বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। আশা করা যায় ইতিবাচক কিছু উত্তর পাওয়া যাবে।
অন্যদিকে বিজেপি-র সঙ্গে জোট করায় আইপিএফটিকে বাদ দিয়ে আইএনপিটি এবং অন্যান্য ছোট দলগুলিকে নিয়ে কংগ্রেস পাহাড়ে নির্বাচনি লড়াইয়ে যেতে চাইছে। প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বদের মতে, আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে সব চিত্র পরিষ্কার হয়ে যাবে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন