মুর্শিদাবাদ : মুর্শিদাবাদের দৌলতাবাদে সেতুর রেলিং ভেঙে বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় বেড়েই চলেছে উদ্ধার হওয়া মৃতদেহের সংখ্যা | সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত ৩৬ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে | এর মধ্যে রয়েছে শিশু ও মহিলাও | তবে বেসরকারি মতে মৃতের সংখ্যা আরও বেশি | যা আরও বাড়বে |
সোমবারের দুর্ঘটনায় চারটি ক্রেনের সাহায্যে বাস ৯০ শতাংশ জলের ওপর তোলা সম্ভব হলে অভিশপ্ত বাসের ইমার্জেন্সি এক্সিট কাচ ভেঙে উদ্ধারকারী দল বাসের ভিতর থেকে একে একে মৃতদেহ বাড় করে আনছে | যার জেরে বেড়েই চেলেছে উদ্ধার হওয়া মৃতদেহের সংখ্যা | বাস জলের উপরে তোলার পর সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে | তবে বেসরকারি মতে এই সংখ্যা আরও বেশি|
আজ ভোর রাতে মুর্শিদাবাদের দৌলতাবাদে সেতুর রেলিং ভেঙে নদীতে পড়ে যায় বাস। রেষারেষির পরিণাম বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের। এটাও জানা যাচ্ছে যে চালক মোবাইলে কথা বলছিলেন | যদিও পরিবহণমন্ত্রীর দাবি, কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা অনেক কম ছিল। সামনে থেকে আসা একটি ট্রাককে বাঁচাতে গিয়ে যাত্রিবাহী বাসটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বাস দুর্ঘটনার আসল কারণ জানতে, তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুর্শিদাবাদে বাস দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই তৎপর হয় সরকারের শীর্ষ মহল। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তারা, যায় বিপর্যয় মোকাবিলা দল। খালে নামানো হয় বেশ কয়েকটি নৌকা। উদ্ধারে নামানো হয় ডুবুরি। কনকনে ঠাণ্ডা জলের মধ্যেই চলে তল্লাশি। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় অবশেষে বিকেলে বাসটিকে তোলা সম্ভব হয়। দু’দিক থেকে দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাসে ঢোকেন এনডিআরএফ ও রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দলের সদস্যরা। বাস থেকে বের করা হয় একের পর এক মৃতদেহ|
জানা গেছে, এদিন ভোর পৌনে ৬টা নাগাদ করিমপুর থেকে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণের একটি বাস বহরমপুরের উদ্দেশে রওনা হয়। প্রথমে বাসটি ছেড়েছিল ৭–৮ জন যাত্রী নিয়ে। পরে আরও যাত্রী বাসে ওঠেন। প্রায় ৫২ জন যাত্রী নিয়ে বাসটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বহরমপুরের দিকে যাচ্ছিল। সকাল ৭–১৫ নাগাদ দৌলতাবাদ থানার বালিরঘাট ব্রিজে ওঠে বাসটি। পার হচ্ছিল ভৈরব নদী। ঠিক সেই সময় সামনে থাকা একটি লরিকে ওভারটেক করতে যায় ওই বাস। নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পেরে রেলিং ভেঙে যাত্রীসমেত ৩০ ফুট নিচে নদীতে গিয়ে পড়ে। উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের অভিযোগ, সকালে রাস্তা ফাঁকা থাকায় অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বাস চালাচ্ছিল চালক। সেই সঙ্গে মোবাইলে কথাও বলছিল। বাস চালাচ্ছিল ১ হাতে। অন্যদিকে কুয়াশা থাকায় রাস্তা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না। এই অবস্থাতেই ওভারটেক করতে গিয়ে এই দুর্ঘটনা। রেলিং ভেঙে নদীতে পড়ার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিস। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রায় ২ ঘণ্টা পর শুরু হয় উদ্ধারকাজ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়এবং পরিবহন মন্ত্রী শুভেন্দু আধিকারী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছেন। এদিন জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দলকে ডাকা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারন খতিয়ে দেখতে পরিবহন দফতর ও পুলিশকে যৌথভাবে তদন্তের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন