নয়াদিল্লি : সাংসদদের বেতন না বাড়ানোর আবেদন জানিয়ে লোকসভার স্পিকার সুমিত্রা মহাজনকে চিঠি দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের সুতানপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ বরুন গান্ধী| তিনপাতার একটি চিঠি দিয়ে বরুন জানিয়েছেন অধিকাংশ সংসদ ধনী এবং কোটিপতি| তাঁর মতে, এর ফলে জন প্রতিনিধিদের প্রতি মানুষের বিশ্বাস এবং আস্থা বাড়বে।| দেশের রাজকোষের টাকার অবস্থা পরিস্থিতি জানিয়ে এদিন বরুন জানিয়েছেন, এখন থেকে যত দিন পর্যন্ত সাংসদের সময়কাল বাকি রয়েছে ততদিন তারা যেন তাদের বেতন না নেন|
বরুন গান্ধী এদিন স্পিকার সুমিত্রা মহাজনকে চিঠি লিখে আবেদন জানিয়েছেন, তিনি যেন সাংসদের এই বিষয়টির ব্যাপারে অবগত করেন| এদিন বরুন জানিয়েছেন, ১৯৪৯ সালে প্রথম প্রধান মন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর সময় দেশের অর্থ সংকটের দিকে তাকিয়ে তিনমাস কোনও সাংসদ তাদের বেতন নেননি| তিনি বলেন, দেশের আর্থিক অনটন দ্রুত গতিতে বেড়ে চলেছে| তিনি তামিলনাড়ু এবং তেলেঙ্গানার বিধায়কদের বেতন বৃদ্ধির বিরোধিতা করেন| তিনি জানিয়েছেন, ভারতের একশতাংশ লোক ৬০ শতাংশ সম্পত্তির মালিকের অধিকারী| এছাড়াও দেশের ৮৪ জন কোটিপতি ৭০ শতাংশের সম্পত্তির মালিক| বর্তমানে লোকসভার ১৩২ জন সাংসদের ঘোষিত সম্পত্তির পরিমাণ ১০ কোটি টাকার উপরে। সমীক্ষা অনুযায়ী, ১৬তম লোকসভা নির্বাচনের সময় একজন সাংসদের গড় সম্পত্তি ছিল ১৪.৬১ কোটি টাকা।
তিনি মনে করেন, বর্তমানে একজন সাংসদের মাসিক মাইনে ৫০,০০০ টাকা, কেন্দ্রের উন্নয়ন বাবদ তিনি পান ৪৫,০০০ টাকা এবং অন্যান্য সুযোগসুবিধা। ফলে সরকারের প্রতি মাসে একজন সাংসদ পিছু ব্যয় হয় প্রায় ২,৭০,০০০ টাকা। ২০১৮ সালে দেখা গিয়েছে এক কোটি টাকা সম্পত্তির অধিকারী ৪৪৯ জন সাংসদ। এছাড়া দেশে বেড়ে চলা অসাম্যতার বিরুদ্ধেও উদ্বেগ প্রকাশ করে বরুণ লিখেছেন, এই অসাম্যতা দেশের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তির পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকারক। জন প্রতিনিধিদেরই উচিত দেশের আর্থসামাজিক সুরক্ষা সুনিশ্চিত করা। বরুণের এই চিঠি নিয়ে ইতিমধ্যেই সাংসদদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন