আগরতলা : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিপুরায় ক্ষমতাসীন বামফ্রন্ট শান্তি ও সম্প্রীতি, রাজ্যের অখণ্ডতা ভিন্ন অন্য কোনও বিষয়কে এখনও নির্বাচনী ইস্যু হিসেবে তুলে আনতে পারেনি। খোদ মুখ্যমন্ত্রীও এই বিষয়গুলোতেই সর্বাধিক প্রাধান্য দিচ্ছেন। আর এগুলো ছাড়া পার্টি নেতৃত্বের ভাষণে থাকছে শুধু কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
বুধবার জিরানিয়ায় আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ রাখেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। ভাষণে তিনি বলেন, "প্রতি পাঁচ বছর অন্তর রাজ্যে নির্বাচন হয়। কিন্তু এবারের নির্বাচন যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। ইতোপূর্বেও বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিগুলি সক্রিয় ছিল। কিন্তু মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। ইতোপূর্বে যারা স্বাধীন ত্রিপুরার ডাক দিয়েছিল তারাই এখন জনবিছিন্ন হয়ে পৃথক রাজ্যের দাবি তুলেছে। এই শক্তির পেছনে জঙ্গি সংগঠন এনএলএফটির যোগাযোগ রয়েছে। আর এই দলকে এখন মদত দিচ্ছে বিজেপি।"
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "রাজ্যের শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষা করা, রাজ্যকে অখণ্ড রাখার ডাক দিয়েছে বামফ্রন্ট।
কারণ মানুষ বিভেদকামী শক্তিগুলির সঙ্গে নেই। এডিসি-র সর্বশেষ নির্বাচনে পৃথক রাজ্যের দাবিদার আইপিএফটি একটি আসনও পায়নি। প্রাপ্ত ভোটের হারও তাদের দৈন্যদশার প্রমাণ দিয়েছে। কিন্তু এই শক্তি এখন মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। স্থানীয় জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। এদের পেছনে এখন মদত যোগাচ্ছে বিজেপি। এক্ষেত্রে বিজেপি যে ভূমিকা নিয়েছে তা রাজ্যবাসীর স্বার্থ বিরোধী।"
তিনি আরও বলেন, "কেন্দ্রে ক্ষমতায় এসেই বিজেপি জনবিরোধী নীতি নিয়েই চলছে। সাধারণ মানুষের সমস্যা বাড়িয়ে দিচ্ছে। ছোট ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষক সবাইকে বিস্তর সমস্যার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। ত্রিপুরায় বামফ্রন্ট সরকার সম্পূর্ণ বিপরীত পথে গিয়ে সাধারণ মানুষের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি রূপায়ণ করছে।"
বুধবারের এই জনসভায় ভাষণ রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, রাজ্যের মানুষ অখণ্ডতা চায়। তাই বিজেপির মদতপুষ্ট আইপিএফটিকে এ রাজ্যের উপজাতিরা সমর্থন করে না। যদিও অনেকে বিভ্রান্ত হচ্ছেন। পার্টি কর্মীদের এখন তাদের কাছে যেতে হবে এবং বাস্তব পরিস্থিতির সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দিতে হবে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন