কেন্দ্রীয় বাজেট: কী বলছে বণিকসভা? - Aaj Bikel
কেন্দ্রীয় বাজেট: কী বলছে বণিকসভা?

কেন্দ্রীয় বাজেট: কী বলছে বণিকসভা?

Share This

কলকাতা: এবারের কেন্দ্রীয় বাজেটকে বিশেষ ভাবে গ্রামীণ উন্নয়ন মুখী, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবার পথে এক বিশেষ পদক্ষেপ বলে বর্ণনা করল দেশের প্রধান বণিকসভাগুলি৷ এই বাজেটকে দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষাকারী বাজেট বলেও বর্ণনা করেছে বণিকসভাগুলি৷


আজ বৃহস্পতিবার সকালে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি সংসদে ২০১৮-১৯ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করার পর, সেই সম্বন্ধে বলতে গিয়ে বিভিন্ন শিল্পপতি এবং প্রধান প্রধান বনিকসভাগুলির বরিষ্ঠ প্রতিনিধিরা বলেন, গত বছরের নোট বাতিল এবং জিএসটির চাপ থাকা সত্ত্বেও অর্থমন্ত্রী যেভাবে বিভিন্ন খাতে অর্থবরাদ্দ করেছেন, বিশেষ করে গ্রামীন, কৃষি এবং সর্বপরি দেশের উন্নয়নে, তা বিশেষ ভাবে প্রশংসার দাবি রাখে৷

এই বিষয়ে আরও বিশদভাবে বলতে গিয়ে বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সহ সভাপতি বিমল জালান বলেন যে, অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী আগামী বছরে ব্লক চেন টেকনোলজির ক্ষেত্রে বিশেষ অর্থ বরাদ্দ ডিজিটাল টেকনোলজির দিকে দেশকে আরও অনেকটা এগিয়ে দেবে এবং তার সঙ্গে অর্থনীতির এক নতুন দিগন্তও খুলে দেবে৷

ঠিক সেই ভাবে মার্চেন্টস চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিসর বরিষ্ঠ সদস্য এবং কেপিএমজির ডেপুটি সিইও অখিল বানসাল দেশের গ্রামীন অর্থনিতির উন্নতির ক্ষেত্রে জেটলির বিভিন্ন ঘোসনার কথা উল্লেখ করে বলেন যে, দেশের বিপুল সংখ্যক গরিব জনগণ এবং মধ্যবিত্তদের জন্য চিকিত্সা খাতে প্রতি বছর পাঁচ লক্ষ টাকা করে সরকারি অনুদানের ঘোষণা এক বিশেষ পদক্ষেপ৷ যে দেশে প্রতি দিন হাজার হাজার মানুষ বিনাচিকিত্সাতে মারা যাচ্ছে, সেই দেশে প্রতি রোগীর জন্য বছরে পাঁচ লক্ষ টাকার সংস্থান হওয়া এক বিশেষ পদক্ষেপ বলেই গণ্য হবে, বানসাল বলেন৷

তিনি আরও বলেন যে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে কয়েক লক্ষ কোটি টাকা বায়ে করার যে সিদ্ধান্ত অর্থমন্ত্রী নিয়েছেন তা সত্যি প্রশংসার যোগ্য৷ আর এক বিশিস্ত শিল্পপতি তথা পাটন ইন্ডাস্ট্রির ম্যানেজিং ডিরেক্টর সঞ্জয় বুধিয়া এবং কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিস (সিআইআই)র সহ সভাপতি রাভি তোডি দেশের বিভিন্ন ব্যাঙ্ক-এর সাফল্যের কথা উল্লেখ করে বলেন যে, যদিও সরকারি ব্যাঙ্কগুলিতে অনাদায়ী অর্থের পরিমান দিনকে দিন বেড়েই চলেছে, তা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় সরকার রিসার্ভ ব্যাঙ্ক এর মাধ্যমে তাদের যে ৮,০০০ কোটি টাকা ২০১৮ সালে দেবার কথা ঘোষণাকরেছে তা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য৷ তবে অনাদিয়ী সেই বিপুল পরিমান অর্থ যা কিনা এখন ১৩ লক্ষ কোটি টাকার ওপর চলে গিয়েছে তাকে আদয় করাই এখন দেশের অর্থমন্ত্রীর প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে মনে করেন বুধিয়া৷

মালিক এবং ভারত চেম্বার অফ কমার্স এর বরিষ্ঠ সদস্য অমিত সারগী দেশের ফিস্কাল ডেফিসিত ৩.৩ শতাংশে বেঁধে রাখার জন্য অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন যে, ১০ শতাংশ ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স এর ঘোষণা দেশের অর্থনীতিকে সঠিক পথে চালনা করার দিকে এ দৃঢ় পদক্ষেপ বলেই গণ্য হবে৷

রাজ্যের আর এক শিল্পপতি দীপঙ্কর চ্যাটার্জী দেশের রেল এবং সড়ক পারিবহনের উন্নতির জন্য ১.৪৭ লক্ষ্ কোটি টাকা বরাদ্দ করার জন্য জেটলি কে ধন্যবাদ জানান৷ তিনি বলেন যে, এই বিপুল পরিমান অর্থ দেশকে এক উন্নততর সার্বিক পরিবহন ব্যবস্থার দিকে আর এক কদম এগিয়ে নিয়ে যাবে৷ 

তিনি আরও বলেন, ভারতমালা প্রজেক্ট এর অন্তর্গত কাজে যদিও গত বছর ৩ লক্ষ কিলোমিটার নতুন রাস্তা তৈরি হয়েছিল, এবারে বিভিন্ন রাজ্যে তার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছ ৫ লক্ষ কিলোমিটার৷ লার্সেন এন্ড তুব্রর বরিষ্ঠ আধিকারিক কেশব পান্ডা বলেন, দেশে ডিজিটাল ইকোনমি স্থাপনার লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রীর বিভিন্ন প্রয়াসের কথা উল্লেখ করে দেশে ব্রড ব্যান্ড এর বাজারকে আরও জোড়ালো করার আহ্বান করেন৷

কোন মন্তব্য নেই: