কলকাতা : ইন্দ-চায়না সম্পর্কের ওপর 'স্যাডো অব দ্যা ড্রাগন অ্যান্ড রিসেন্ট ডেভলপমেন্ট' শীর্ষক বইটি প্রকাশিত হতে চলেছে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি রবিবার । বইটির লেখক বর্ষীয়ান সাংবাদিক অমলেন্দু কুন্ডু । এ বছরই তার সাংবাদিকতার পঞ্চাশ বছর হচ্ছে । অমলেন্দুবাবু ছাড়াও বইটিতে লিখেছেন প্রাক্তন সেনা অফিসার কে কে গাঙ্গুলী,প্রাক্তন উপাচার্য ডঃ শঙ্কর সেন,সাংবাদিক নির্মাল্য বন্দ্যোপাধায় সহ তেরো জন লেখক । রবিবার ক্যালকাটা ক্লাবে বইটি উদ্বোধন করবেন ত্রিপুরার রাজ্যপাল তথাগত রায় । উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় । বোম্বে হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি চিত্ততোষ মুখোপাধ্যায় । প্রাক্তন সেনা প্রধান জেনারেল শঙ্কর রায়চৌধুরি । সিকিম পুলিশের প্রাক্তন ডি জি আর কে হান্ডা প্রমুখ । কলকাতা ছাড়াও দিল্লি এবং গ্যাংটকে একই রকম ভাবে বইটি প্রকাশিত হবে । বইটির প্রকাশক ‘পোয়েটস ফাউন্ডেশন’ ।
শুক্রবার কলকাতা প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বইটি সম্পর্কে বলতে গিয়ে সাংবাদিক নির্মাল্য বন্দ্যোপাধায় বলেন, অমলেন্দু কুন্ডু নিজেই সিকিমে একটি প্রতিষ্ঠান । হিমালয় অঞ্চলে চীনের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত বিষয়ে তিনি বিশেষ ভাবে জানেন । ব্রিটিশদের সঙ্গে চীনের চুক্তির ফলে সিকিমে চীন সীমান্তে সুসম্পর্ক বজায় রয়েছে । যদিও তারা এখন গোটা অরুণাচলটাকেই দাবি করছে । ভুটান, ভারত চীনের মধ্যে সীমান্ত বিবাদ রয়েছে ডোকলাম কে ঘিরে । সিকিম সীমান্ত ভারতীয় সেনাবাহিনী দারুণ ভাবে নজরে রাখে । ভারত সরকার সেখানে রাস্তাঘাট সহ যাবতীয় পরিকাঠামো তৈরি করেছে ।
অমলেন্দু কুন্ডু জানান,এটা আমার প্রথম বই । নেপাল,সিকিম,ভুটান,উত্তর পূর্ব ভারতে চীন সীমান্তের সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল । ১৯৬৩ তে প্রথম ওই অঞ্চলে যাই । জওহরলাল নেহরু যখন হিন্দি-চিনি ভাই ভাই চুক্তি করছেন তখনই ১৯৬২ সালে অরুণাচলের বোমডিলায় চীনা সেনা অনুপ্রবেশ করে । সাড়ে চার হাজার চীনা সেনাকে বেয়নেট দিয়ে মেরে দেয় ভারতীয় সেনারা । ১৯৪৭ সালে একই ঘটনা সিকিমের নাথুলাতে হয় ।ওদের প্রায় ৫৭ জন মারা যায় । তিব্বত চীন দখল করে নিল এই যুক্তিতে যে নেপাল,তিব্বত,সিকিম,ভুটান এক সময় তাদেরই রাজত্ব ছিল ।
অমলেন্দুবাবু বলেন, এই বইটিতে গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের কথাও বলা হয়েছে । সুবাস ঘিসিং থেকে একদম বিমল গুরুং অবধি । সিকিম একটা ছোট্ট রাজ্য । সাড়ে ছ'লক্ষ লোকের বসতি সেখানে । পাঁচশ থেকে একুশ হাজার ফিট পর্যন্ত যাওয়া যায় । সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী পবন কুমার চামলিং এর কথা অনুযায়ী ৩৪ বছর গোর্খাল্যান্ড আন্দোলন চলার ফল ৩৪ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে সেখানে । তিনি জানান, সেনাবাহিনীর সুবিধার জন্য এবার বাগরাকোট থেকে ট্যানেলের মধ্যে দিয়ে লাথুলা পাস অবধি সোজা হাইওয়ে তৈরি করছে ভারত সরকার । অমলেন্দু কুন্ডু বলেন, ১৯৬০ সাল ২০১৭-র নভেম্বর পর্যন্ত ভারত চীন সীমান্তে যা যা ঘটনা ঘটেছে তা লেখা হয়েছে এই বইটিতে ।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন